জিকা ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিকার

জিকা ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিকার

জিকা ভাইরাস কী

জিকা ভাইরাস ফ্ল্যাভি ভাইরাস গোত্রেরি একটি সমগোত্রীয় ভাইরাস। এটি মূলত ভাইরাসজনিত সংক্রামক ব্যাধি। জিকা ভাইরাসের মধ্যে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে দেখা যায়। ডেঙ্গুর মতো এডিস মশা বাহিত রোগ জিকা। বর্তমানে নতুনভাবে বিস্তার করা এ রোগটি ১৯৪৭ সালে প্রথম উগান্ডার জিকা নামক বনাঞ্চলের একটি বানরের মধ্যে প্রথম সনাক্ত হয়। পরবর্তীতে এ রোগটি আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রাজিলে ২০১৫ সাল থেকে এ নিয়ে গবেষণা চলছে। পঞ্চাশের দশকে আফ্রিকান দেশগুলোয় মানুষের শরীরেও এই জীবাণু পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রথম ধরা পড়ে ২০১৪ সালে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে পাঁচজন জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। গত তিন মাসে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

জিকা সংক্রমণ কিভাবে ঘটে

প্রাথমিকভাবে জিকা ভাইরাস এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এধরনের মশা সাধারণত ভোর বেলা কামড়ায়। আক্রান্ত পুরুষ রোগীর সাথে নারীদের মাঝে এ রোগটি ছড়াতে পারে। গর্ভবতী মহিলা প্রথম তিন মাসের মধ্যে আক্রান্ত হলে গর্ভের সন্তান এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। গর্ভস্থ শিশুর জন্য বিষয়টি মারাত্মক জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আক্রান্ত রক্তদাতার রক্ত গ্রহণ করলে অথবা ল্যাবরেটরীতে নমুনা পরীক্ষার সময় অসাবধানতাবশত এ রোগ ছড়াতে পারে। জিকা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়

জিকা ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিকার prokritibarta

রোগের লক্ষণ কী কী

আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। বাকি ২০ শতাংশে কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তির চামড়ায় লালচে দানার মতো ছোপ (র‌্যাশ) দেখা দেয়। জিকা ভাইরাস সংক্রমণে সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে শরীরে লালচে দানার মতো ছোপ বা র‍্যাশ দেখা যায়। হালকা জ্বর, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ থেকে পানি পড়ে। মাংসপেশি ও গিঁটে গিঁটে ব্যথা, অবসাদ এবং মাথাব্যথা হতে পারে।

জিকা ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিকার prokritibarta

ঢাকায় জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত

গত তিন মাসে ঢাকায় আটজনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি জানা গেছে। গত বছরও পাঁচজন জিকা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। চিকিৎসার পর তাঁরা এখন ঝুঁকিমুক্ত। জিকায় আক্রান্ত ওই রোগী ছিলেন চট্টগ্রামের। ২০১৭ সালে আইইডিসিআরের একটি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম জানা যায়। গত বছর পাঁচজন জিকা রোগী শনাক্ত করে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। গবেষকেরা বলছেন, জিকার পাশাপাশি ঢাকা শহরে এখন চিকুনগুনিয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এর অর্থ ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়া এই তিন রোগে ঢাকা শহরের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনটি রোগই ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে। আইইডিসিআরের গবেষকেরা ডেঙ্গু রোগীর রক্তের নমুনা পরীক্ষার সময় জিকা ভাইরাস শনাক্ত করেছেন। অন্তত চারজনের নমুনা পরীক্ষায় জিকা শনাক্ত হয়েছে। আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, গত দেড়–দুই মাসের নমুনা পরীক্ষায় জিকা শনাক্ত হয়েছে। জিকা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা রাজধানীর ধানমন্ডি, শ্যামলী ও বনানীর বাসিন্দা। আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে পাওয়া মশার নমুনাতেও জিকা ভাইরাস পাওয়া গেছে।

জিকা ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিকার prokritibarta

জিকার জটিলতা

গর্ভাবস্থায় জিকা ভাইরাস আক্রমণ হলে শিশুর মাইক্রোকেফালি (স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট মাথা) এবং শ্রবণজনিত সমস্যা হতে পারে। এমনকি অপরিপূর্ণ শিশুর জন্ম (প্রিটার্ম বেবি) হতে পারে। এ ছাড়া অন্যান্য স্নায়বিক রোগের আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়।

রোগনির্ণয়

আইইডিসিআর জানিয়েছে, জিকার কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, এর চিকিৎসা উপসর্গভিত্তিক। জিকায় আক্রান্ত ব্যক্তির এক সপ্তাহের মধ্যে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জীবাণু শনাক্ত করা যায়। এছাড়া এক মাসের মধ্যে রোগীর প্রস্রাব এবং পুরুষ রোগীর ক্ষেত্রে দুই মাসের মধ্যে বীর্য পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয় করা যায়। বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) এসব পরীক্ষা করে থাকে।

জিকা ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিকার prokritibarta

জিকা ভাইরাসের প্রতিকার

জিকা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক। জিকা ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক তৈরি হয়নি, তাই নিজেদের সচেতনতাই জরুরি। আইইডিসিআর জানিয়েছে, জিকার কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, এর চিকিৎসা উপসর্গভিত্তিক। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম নিতে হবে। প্রচুর পানি ও তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। জ্বর ও ব্যথার জন্য শুধু প্যারাসিটামলজাতীয় ঔষধ খেতে হবে। কোন কারণে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে অতি শীঘ্র নিকটস্থ সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। রাতে তো অবশ্যই, দিনেও মশারি ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে। অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে এটা বেশি প্রয়োজন। গিঁটে বা শরীরে ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খেতে হবে। নিজে থেকেই ব্যথার ওষুধ খেয়ে নিজের ক্ষতি করবেন না। জিকা ভাইরাসে খুব একটা মৃত্যুর খবর পাওয়া না। তবুও নিরাপদ থাকার জন্য সাবধানতা থাকা জরুরি। মশার কামড় থেকে সুরক্ষাই জিকা ভাইরাস থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান পরিবেশ অধিদপ্তরের

জিকা ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিকার

আপডেট সময় ০৫:০৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৪

জিকা ভাইরাস কী

জিকা ভাইরাস ফ্ল্যাভি ভাইরাস গোত্রেরি একটি সমগোত্রীয় ভাইরাস। এটি মূলত ভাইরাসজনিত সংক্রামক ব্যাধি। জিকা ভাইরাসের মধ্যে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে দেখা যায়। ডেঙ্গুর মতো এডিস মশা বাহিত রোগ জিকা। বর্তমানে নতুনভাবে বিস্তার করা এ রোগটি ১৯৪৭ সালে প্রথম উগান্ডার জিকা নামক বনাঞ্চলের একটি বানরের মধ্যে প্রথম সনাক্ত হয়। পরবর্তীতে এ রোগটি আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রাজিলে ২০১৫ সাল থেকে এ নিয়ে গবেষণা চলছে। পঞ্চাশের দশকে আফ্রিকান দেশগুলোয় মানুষের শরীরেও এই জীবাণু পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রথম ধরা পড়ে ২০১৪ সালে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে পাঁচজন জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। গত তিন মাসে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

জিকা সংক্রমণ কিভাবে ঘটে

প্রাথমিকভাবে জিকা ভাইরাস এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এধরনের মশা সাধারণত ভোর বেলা কামড়ায়। আক্রান্ত পুরুষ রোগীর সাথে নারীদের মাঝে এ রোগটি ছড়াতে পারে। গর্ভবতী মহিলা প্রথম তিন মাসের মধ্যে আক্রান্ত হলে গর্ভের সন্তান এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। গর্ভস্থ শিশুর জন্য বিষয়টি মারাত্মক জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আক্রান্ত রক্তদাতার রক্ত গ্রহণ করলে অথবা ল্যাবরেটরীতে নমুনা পরীক্ষার সময় অসাবধানতাবশত এ রোগ ছড়াতে পারে। জিকা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়

জিকা ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিকার prokritibarta

রোগের লক্ষণ কী কী

আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। বাকি ২০ শতাংশে কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তির চামড়ায় লালচে দানার মতো ছোপ (র‌্যাশ) দেখা দেয়। জিকা ভাইরাস সংক্রমণে সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে শরীরে লালচে দানার মতো ছোপ বা র‍্যাশ দেখা যায়। হালকা জ্বর, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ থেকে পানি পড়ে। মাংসপেশি ও গিঁটে গিঁটে ব্যথা, অবসাদ এবং মাথাব্যথা হতে পারে।

জিকা ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিকার prokritibarta

ঢাকায় জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত

গত তিন মাসে ঢাকায় আটজনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি জানা গেছে। গত বছরও পাঁচজন জিকা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। চিকিৎসার পর তাঁরা এখন ঝুঁকিমুক্ত। জিকায় আক্রান্ত ওই রোগী ছিলেন চট্টগ্রামের। ২০১৭ সালে আইইডিসিআরের একটি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম জানা যায়। গত বছর পাঁচজন জিকা রোগী শনাক্ত করে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। গবেষকেরা বলছেন, জিকার পাশাপাশি ঢাকা শহরে এখন চিকুনগুনিয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এর অর্থ ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়া এই তিন রোগে ঢাকা শহরের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনটি রোগই ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে। আইইডিসিআরের গবেষকেরা ডেঙ্গু রোগীর রক্তের নমুনা পরীক্ষার সময় জিকা ভাইরাস শনাক্ত করেছেন। অন্তত চারজনের নমুনা পরীক্ষায় জিকা শনাক্ত হয়েছে। আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, গত দেড়–দুই মাসের নমুনা পরীক্ষায় জিকা শনাক্ত হয়েছে। জিকা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা রাজধানীর ধানমন্ডি, শ্যামলী ও বনানীর বাসিন্দা। আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে পাওয়া মশার নমুনাতেও জিকা ভাইরাস পাওয়া গেছে।

জিকা ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিকার prokritibarta

জিকার জটিলতা

গর্ভাবস্থায় জিকা ভাইরাস আক্রমণ হলে শিশুর মাইক্রোকেফালি (স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট মাথা) এবং শ্রবণজনিত সমস্যা হতে পারে। এমনকি অপরিপূর্ণ শিশুর জন্ম (প্রিটার্ম বেবি) হতে পারে। এ ছাড়া অন্যান্য স্নায়বিক রোগের আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়।

রোগনির্ণয়

আইইডিসিআর জানিয়েছে, জিকার কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, এর চিকিৎসা উপসর্গভিত্তিক। জিকায় আক্রান্ত ব্যক্তির এক সপ্তাহের মধ্যে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জীবাণু শনাক্ত করা যায়। এছাড়া এক মাসের মধ্যে রোগীর প্রস্রাব এবং পুরুষ রোগীর ক্ষেত্রে দুই মাসের মধ্যে বীর্য পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয় করা যায়। বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) এসব পরীক্ষা করে থাকে।

জিকা ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিকার prokritibarta

জিকা ভাইরাসের প্রতিকার

জিকা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক। জিকা ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক তৈরি হয়নি, তাই নিজেদের সচেতনতাই জরুরি। আইইডিসিআর জানিয়েছে, জিকার কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, এর চিকিৎসা উপসর্গভিত্তিক। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম নিতে হবে। প্রচুর পানি ও তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। জ্বর ও ব্যথার জন্য শুধু প্যারাসিটামলজাতীয় ঔষধ খেতে হবে। কোন কারণে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে অতি শীঘ্র নিকটস্থ সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। রাতে তো অবশ্যই, দিনেও মশারি ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে। অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে এটা বেশি প্রয়োজন। গিঁটে বা শরীরে ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খেতে হবে। নিজে থেকেই ব্যথার ওষুধ খেয়ে নিজের ক্ষতি করবেন না। জিকা ভাইরাসে খুব একটা মৃত্যুর খবর পাওয়া না। তবুও নিরাপদ থাকার জন্য সাবধানতা থাকা জরুরি। মশার কামড় থেকে সুরক্ষাই জিকা ভাইরাস থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায়।