শীত ছাড়াই দূষিত বায়ুর শহর তালিকায় প্রথম ২০ এ থাকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, আর শীত এলেই ঢাকা দূষণ তালিকায় একেবারে শীর্ষে থাকতে দিল্লি, লাহোরের সঙ্গে যেন প্রতিযোগীতায় নেমে যায়! আজ ১৫ ডিসেম্বর (রোববার) সকালে বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহর তালিকার দ্বিতীয়তে ছিল ঢাকা এবং এই প্রতিবেদন লেখার সময় ঢাকার অবস্থান ৪ নম্বরে। দেখা যাচ্ছে যে, রাত থেকে শুরু হয়ে সকাল পর্যন্ত যতক্ষণ কুয়াশার মতো স্মগ থাকে তখনই বায়ুমান থাকে মারাত্মক খারাপ অবস্থায়। খালি চোখে যাকে কুয়াশা মনে হচ্ছে আসলে ঢাকা ও বাংলাদেশের বেশিরভাগ এলাকায় সেটা ধোঁয়া, ধূলা, বস্ত্রের অতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়, যাকে বলা হয় পিএম ২.৫ বা বস্তুকণা।
বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সূচক বলছে, এই মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা চতুর্থ অবস্থানে আছে। এখন ঢাকার বায়ুমান স্কোর ২১০। বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর, যা সংবেদনশীল মানুষসহ সবার জন্যই উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতিতে ঘরের বাইরে কম সময় থাকা, থাকলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করা এবং ঘরের জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া শীতে বায়ুদূষণমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অন্তবর্তী সরকারের তরফ থেকেও জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, দূষিত বায়ুর শহর তালিকায় ১ নম্বরে আছে কুয়েত সিটি, সেখানে বায়ুমানের সব স্কোর ছাড়িয়ে বাতাস বিপজ্জনক পর্যায়ও অতিক্রম করেছে। এরপরে আছে পাকিস্তানের লাহোর, ভারতের দিল্লি এবং তারপরেই ঢাকা।
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোর মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। অন্যদিকে, স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।
এছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। সাধারণত একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে। যেমন: বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















