সংবাদ শিরোনাম ::

নির্বাচনী শব্দদূষণ: জামালপুরে দুই স্কুলের ক্লাস বন্ধ

নির্বাচনী শব্দদূষণ: জামালপুরে দুই স্কুলের ক্লাস বন্ধ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকে দেশের প্রায় সব জায়গায় বেড়েছে নির্বাচনী প্রচারণার মাইকিং, চলছে প্রার্থী ও দলের নামে থিমসং বাজানোর প্রতিযোগিতা। এছাড়া সভা-সমাবেশে চলছে তীব্র শব্দে বক্তৃতাবাজি। জামালপুরের বকশীগঞ্জে এরকমই এক সমাবেশ থেকে আসা উচ্চ শব্দের দু’টি স্কুলের ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে।

 

এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার অনলাইন। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে: জামালপুরের বকশীগঞ্জে ক্লাস চলাকালে স্কুলমাঠে নির্বাচনী সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সমাবেশে লাউড স্পিকারের উচ্চ শব্দে দুটি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

 

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে বকশীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বকশীগঞ্জ নূর মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাইকের আওয়াজ শুরু হলে কোনো রকমে দুটি পিরিয়ডের ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়। এরপর উচ্চ শব্দে টেকা দায় হয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা স্কুল ছেড়ে চলে যায়।

 

জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনে হাতপাখার প্রার্থী আব্দুর রউফ তালুকদারের সমর্থনে উপজেলা ইসলামী আন্দোলন এই সমাবেশের আয়োজন করে।

নূর মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মাঠ ব্যবহারের জন্য গতকাল আবেদন আসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বললে তিনি মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেন। কিন্তু সকাল সাড়ে ১১টার দিকেই মাইক বাজানো শুরু হয়। শব্দদূষণের কারণে শিক্ষার্থীরা চলে যায়।’

 

মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মর্জিনা চৌধুরী বলেন, ‘কিছু বলার নেই। ছোট বাচ্চারা এই শব্দের মধ্যে কীভাবে ক্লাস করবে?’

 

এ ব্যাপারে জামালপুর-১ আসনের হাতপাখার নির্বাচন সমন্বয়কারী হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলায় সরকারি কোনো মাঠ নেই। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই এখানে সমাবেশের আয়োজন করেছি।’

 

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নূর মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের মোবাইলফোনে কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ‘আচরণবিধিতে এমন কিছু আছে কি না, তা দেখার জন্য সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বলেছি।’

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

মাদারীপুর থেকে প্রায় বিলুপ্ত একটি গ্রে ঈগল আহত অবস্থায় উদ্ধার

নির্বাচনী শব্দদূষণ: জামালপুরে দুই স্কুলের ক্লাস বন্ধ

আপডেট সময় ০৪:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকে দেশের প্রায় সব জায়গায় বেড়েছে নির্বাচনী প্রচারণার মাইকিং, চলছে প্রার্থী ও দলের নামে থিমসং বাজানোর প্রতিযোগিতা। এছাড়া সভা-সমাবেশে চলছে তীব্র শব্দে বক্তৃতাবাজি। জামালপুরের বকশীগঞ্জে এরকমই এক সমাবেশ থেকে আসা উচ্চ শব্দের দু’টি স্কুলের ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে।

 

এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার অনলাইন। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে: জামালপুরের বকশীগঞ্জে ক্লাস চলাকালে স্কুলমাঠে নির্বাচনী সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সমাবেশে লাউড স্পিকারের উচ্চ শব্দে দুটি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

 

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে বকশীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বকশীগঞ্জ নূর মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাইকের আওয়াজ শুরু হলে কোনো রকমে দুটি পিরিয়ডের ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়। এরপর উচ্চ শব্দে টেকা দায় হয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা স্কুল ছেড়ে চলে যায়।

 

জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনে হাতপাখার প্রার্থী আব্দুর রউফ তালুকদারের সমর্থনে উপজেলা ইসলামী আন্দোলন এই সমাবেশের আয়োজন করে।

নূর মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মাঠ ব্যবহারের জন্য গতকাল আবেদন আসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বললে তিনি মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেন। কিন্তু সকাল সাড়ে ১১টার দিকেই মাইক বাজানো শুরু হয়। শব্দদূষণের কারণে শিক্ষার্থীরা চলে যায়।’

 

মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মর্জিনা চৌধুরী বলেন, ‘কিছু বলার নেই। ছোট বাচ্চারা এই শব্দের মধ্যে কীভাবে ক্লাস করবে?’

 

এ ব্যাপারে জামালপুর-১ আসনের হাতপাখার নির্বাচন সমন্বয়কারী হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলায় সরকারি কোনো মাঠ নেই। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই এখানে সমাবেশের আয়োজন করেছি।’

 

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নূর মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের মোবাইলফোনে কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ‘আচরণবিধিতে এমন কিছু আছে কি না, তা দেখার জন্য সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বলেছি।’