সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

নোবেল শান্তি পুরস্কার পেল পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী জাপানি সংগঠন নিহন হিদানকিয়ো

নোবেল শান্তি পুরস্কার পেল পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী জাপানি সংগঠন নিহন হিদানকিয়ো

শান্তিতে নোবেল পেল পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী জাপানি সংগঠন নিহন হিদানকিয়ো। হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের হাত ধরে এই সংগঠনের সূচনা হয়েছিল।

নরওয়ের নোবেল ইন্সটিটিউট শুক্রবার অসলোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ১০৫তম নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য এ সংগঠনের নাম ঘোষণা করে। এ পুরস্কারের অর্থমূল্য এবার ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার।

পুরস্কারের ঘোষণায় নোবেল কমিটি বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার লড়াইয়ে যে ভূমিকা নিহোন হিদানকিয়ো রেখে চলেছে, তার স্বীকৃতিতেই শান্তির নোবেল দেওয়া হচ্ছে এ সংগঠনকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য তুলে ধরে তারা দেখিয়েছে, এই পৃথিবীতে কেন আর কখনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা চলবে না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে ১৯৪৫ সালের ৬ অগাস্ট জাপানের হিরোশিমায় একটি পারমাণবিক বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র । মার্কিনিরা সেই বোমার নাম দিয়েছিল ‘লিটল বয়’।

প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টন টিএনটির সমান শক্তির ওই বোমার বিস্ফোরণে দুই কিলোমিটার এলাকার মধ্যে যত স্থাপনা ছিল সবই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। চোখের নিমিশে পুড়ে ছাই হয়ে যায় শহরের অধিকাংশ স্থান। বিশ্বের প্রথম সেই পারমাণবিক বোমা হামলায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের প্রাণ যায়।

তিনদিন পর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে নাগাসাকি শহরে আরেকটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র, যার নাম তারা দিয়েছিল ফ্যাট ম্যান।

৪ হাজার ৬৩৩ কেজি ওজনের ওই বোমার বিস্ফোরণে নাগাসাকি শহরও পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মৃত্যু হয় আরও প্রায় ৭৬ হাজার মানুষের।

মূলত ওই হামলার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। কিন্তু পারমাণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়ায় বিভিন্ন রোগে ভুগে দুই শহরে চার লাখের মত মানুষ মারা যায়। বহু বছর পরও দুই শহরে জন্ম নেয় বিকলাঙ্গ শিশু।

হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যারা পারমাণবিক বোমার ক্ষত নিয়েও বেঁচে গিয়েছিলেন, জাপানি ভাষায় তাদের বলা হয় ‘হিবাকুশা’। এর অর্থ, বিস্ফোরণে বিক্ষত মানুষ। ২০০৭ সাল পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি হিবাকুশাকে তালিকাভুক্ত করেছিল জাপান সরকার।

এই হিবাকুশারাদের একটি স্থানীয় সংগঠন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ততের সঙ্গে নিয়ে ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠা কর্র জাপান কনফেডারেশন অব এ- অ্যান্ড এইচ-বম্ব সাফারারস অর্গানাইজেশন, যাকে জাপানি ভাষায় সংক্ষেপে বলা হয় ‘নিহন হিদানকিয়ো’।

তারপর থেকে হিরোশিমা ও নাগাসাকির বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের পক্ষে জোরালো আন্দোলন চালিয়ে আসছে এ সংগঠটি।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

নোবেল শান্তি পুরস্কার পেল পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী জাপানি সংগঠন নিহন হিদানকিয়ো

আপডেট সময় ০১:১১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৪

শান্তিতে নোবেল পেল পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী জাপানি সংগঠন নিহন হিদানকিয়ো। হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের হাত ধরে এই সংগঠনের সূচনা হয়েছিল।

নরওয়ের নোবেল ইন্সটিটিউট শুক্রবার অসলোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ১০৫তম নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য এ সংগঠনের নাম ঘোষণা করে। এ পুরস্কারের অর্থমূল্য এবার ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার।

পুরস্কারের ঘোষণায় নোবেল কমিটি বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার লড়াইয়ে যে ভূমিকা নিহোন হিদানকিয়ো রেখে চলেছে, তার স্বীকৃতিতেই শান্তির নোবেল দেওয়া হচ্ছে এ সংগঠনকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য তুলে ধরে তারা দেখিয়েছে, এই পৃথিবীতে কেন আর কখনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা চলবে না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে ১৯৪৫ সালের ৬ অগাস্ট জাপানের হিরোশিমায় একটি পারমাণবিক বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র । মার্কিনিরা সেই বোমার নাম দিয়েছিল ‘লিটল বয়’।

প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টন টিএনটির সমান শক্তির ওই বোমার বিস্ফোরণে দুই কিলোমিটার এলাকার মধ্যে যত স্থাপনা ছিল সবই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। চোখের নিমিশে পুড়ে ছাই হয়ে যায় শহরের অধিকাংশ স্থান। বিশ্বের প্রথম সেই পারমাণবিক বোমা হামলায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের প্রাণ যায়।

তিনদিন পর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে নাগাসাকি শহরে আরেকটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র, যার নাম তারা দিয়েছিল ফ্যাট ম্যান।

৪ হাজার ৬৩৩ কেজি ওজনের ওই বোমার বিস্ফোরণে নাগাসাকি শহরও পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মৃত্যু হয় আরও প্রায় ৭৬ হাজার মানুষের।

মূলত ওই হামলার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। কিন্তু পারমাণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়ায় বিভিন্ন রোগে ভুগে দুই শহরে চার লাখের মত মানুষ মারা যায়। বহু বছর পরও দুই শহরে জন্ম নেয় বিকলাঙ্গ শিশু।

হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যারা পারমাণবিক বোমার ক্ষত নিয়েও বেঁচে গিয়েছিলেন, জাপানি ভাষায় তাদের বলা হয় ‘হিবাকুশা’। এর অর্থ, বিস্ফোরণে বিক্ষত মানুষ। ২০০৭ সাল পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি হিবাকুশাকে তালিকাভুক্ত করেছিল জাপান সরকার।

এই হিবাকুশারাদের একটি স্থানীয় সংগঠন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ততের সঙ্গে নিয়ে ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠা কর্র জাপান কনফেডারেশন অব এ- অ্যান্ড এইচ-বম্ব সাফারারস অর্গানাইজেশন, যাকে জাপানি ভাষায় সংক্ষেপে বলা হয় ‘নিহন হিদানকিয়ো’।

তারপর থেকে হিরোশিমা ও নাগাসাকির বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের পক্ষে জোরালো আন্দোলন চালিয়ে আসছে এ সংগঠটি।