পু জু ! প্রাণীর মল থেকে প্রাণীদের বাঁচানোর প্রকল্প

পু জু ! প্রাণীর মল থেকে প্রাণীদের বাঁচানোর প্রকল্প

পু জু! শুনেই চমকে যাচ্ছেন? পু মানে তো বিষ্ঠা! তাহলে কি বিষ্ঠার চিড়িয়াখানা? না, বিষয়টি আসলে পুরোপুরি তা নয়, আবার অনেকটা তা-ই। হেয়ালি রেখে তবে বিস্তারিত জানানো যাক: “পু জু” (Poo Zoo) হলো যুক্তরাজ্যের একটি অভিনব বৈজ্ঞানিক প্রকল্প, যা বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীদের রক্ষার জন্য তাদের মল, বিষ্ঠা, গোবর থেকে জীবন্ত কোষ সংগ্রহ করে । এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাণীদের মল ব্যবহার করে জেনেটিক বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা এবং বংশবিস্তার জোরদার করা।

‘Poo Zoo’ প্রকল্পের’ তথ্যানুযায়ী, মলের মধ্যে থাকা জীবন্ত কোষ বা DNA ব্যবহার করে অত্যাধুনিক প্রজনন প্রযুক্তি (ক্লোনিং বা IVF) এর মাধ্যমে প্রাণীর পুনরুৎপাদন বা বংশবিস্তার সম্ভব।

 

কিভাবে?

প্রাণীর মল থেকে ডিএনএ (DNA) এবং জীবন্ত কোষ সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে তা সংরক্ষণ করা হয়।

এই কোষ ব্যবহার করে আইভিএফ (In Vitro Fertilization) বা ক্লোনিং-এর মাধ্যমে বিপন্ন প্রাণীর নতুন বাচ্চার জন্ম দেওয়া যেতে পারে ।

এটি বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত না করেই তাদের জেনেটিক বৈচিত্র্য বিশ্লেষণ এবং বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

সংক্ষেপে, এটি আধুনিক জীবপ্রযুক্তির (Biotechnology) একটি অনন্য প্রয়োগ যেখানে মলের মত বর্জ্য উপাদানকে প্রাণীর বংশবৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রেক্ষাপট

তুষার চিতা থেকে শুরু করে সামুদ্রিক কচ্ছপ, বিশ্বজুড়ে হুমকির মুখে রয়েছে অনেক প্রাণী। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বন্যপ্রাণীর ব্যাপক ধ্বংসকে ‘জৈবিক ধ্বংস’ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিপন্ন প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে ব্যাপক গবেষণা চালাচ্ছেন তারা।

এরই ধারাবাহিকতায় পশুর জিনগত বৈচিত্র্য ধরে রাখতে এবং কাজে লাগাতে, মল ব্যবহার করা যায় কিনা তা নিয়ে গবেষণা করছেন অক্সফোর্ড ইউনির্ভাসিটির একদল বিজ্ঞানী। এই প্রকল্পটির নাম ‘পু জু’। এই প্রকল্পটি একটি সহজ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অপাচ্য খাবার, ব্যাকটেরিয়া এবং পিত্তের পাশাপাশি, মলেও সেই প্রাণীর কোষ থাকে।

গবেষণায় জানা গেছে, মলত্যাগের প্রাথমিক পর্যায়ে কোষগুলো জীবিত থাকে। এরইমধ্যে ইঁদুর ও হাতির বিষ্ঠা থেকে জীবন্ত কোষ বিচ্ছিন্ন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই কোষগুলো জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান পরিবেশ অধিদপ্তরের

পু জু ! প্রাণীর মল থেকে প্রাণীদের বাঁচানোর প্রকল্প

আপডেট সময় ০৪:০৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

পু জু! শুনেই চমকে যাচ্ছেন? পু মানে তো বিষ্ঠা! তাহলে কি বিষ্ঠার চিড়িয়াখানা? না, বিষয়টি আসলে পুরোপুরি তা নয়, আবার অনেকটা তা-ই। হেয়ালি রেখে তবে বিস্তারিত জানানো যাক: “পু জু” (Poo Zoo) হলো যুক্তরাজ্যের একটি অভিনব বৈজ্ঞানিক প্রকল্প, যা বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীদের রক্ষার জন্য তাদের মল, বিষ্ঠা, গোবর থেকে জীবন্ত কোষ সংগ্রহ করে । এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাণীদের মল ব্যবহার করে জেনেটিক বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা এবং বংশবিস্তার জোরদার করা।

‘Poo Zoo’ প্রকল্পের’ তথ্যানুযায়ী, মলের মধ্যে থাকা জীবন্ত কোষ বা DNA ব্যবহার করে অত্যাধুনিক প্রজনন প্রযুক্তি (ক্লোনিং বা IVF) এর মাধ্যমে প্রাণীর পুনরুৎপাদন বা বংশবিস্তার সম্ভব।

 

কিভাবে?

প্রাণীর মল থেকে ডিএনএ (DNA) এবং জীবন্ত কোষ সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে তা সংরক্ষণ করা হয়।

এই কোষ ব্যবহার করে আইভিএফ (In Vitro Fertilization) বা ক্লোনিং-এর মাধ্যমে বিপন্ন প্রাণীর নতুন বাচ্চার জন্ম দেওয়া যেতে পারে ।

এটি বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত না করেই তাদের জেনেটিক বৈচিত্র্য বিশ্লেষণ এবং বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

সংক্ষেপে, এটি আধুনিক জীবপ্রযুক্তির (Biotechnology) একটি অনন্য প্রয়োগ যেখানে মলের মত বর্জ্য উপাদানকে প্রাণীর বংশবৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রেক্ষাপট

তুষার চিতা থেকে শুরু করে সামুদ্রিক কচ্ছপ, বিশ্বজুড়ে হুমকির মুখে রয়েছে অনেক প্রাণী। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বন্যপ্রাণীর ব্যাপক ধ্বংসকে ‘জৈবিক ধ্বংস’ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিপন্ন প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে ব্যাপক গবেষণা চালাচ্ছেন তারা।

এরই ধারাবাহিকতায় পশুর জিনগত বৈচিত্র্য ধরে রাখতে এবং কাজে লাগাতে, মল ব্যবহার করা যায় কিনা তা নিয়ে গবেষণা করছেন অক্সফোর্ড ইউনির্ভাসিটির একদল বিজ্ঞানী। এই প্রকল্পটির নাম ‘পু জু’। এই প্রকল্পটি একটি সহজ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অপাচ্য খাবার, ব্যাকটেরিয়া এবং পিত্তের পাশাপাশি, মলেও সেই প্রাণীর কোষ থাকে।

গবেষণায় জানা গেছে, মলত্যাগের প্রাথমিক পর্যায়ে কোষগুলো জীবিত থাকে। এরইমধ্যে ইঁদুর ও হাতির বিষ্ঠা থেকে জীবন্ত কোষ বিচ্ছিন্ন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই কোষগুলো জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।