সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

বৃষ্টির সময় কেন খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে?

বৃষ্টি এলেই মনে প্রফুল্লতা বাড়ার সাথে সাথে যেন বেড়ে যায় মুখের স্বাদ। খেতে ইচ্ছা জাগে যেকোনো মুখোরোচক খাবার। এর মধ্যে খিচুড়ি নামটিই তালিকার প্রথমে চলে আসে। কেন এটি খেতে মন চায় সে এক রহস্য। মেঘলা আকাশ, রিমঝিম বৃষ্টি।

হালকা বাতাসে মন বলে ওঠে আজ পাতে খিচুড়ি না হলেই নয়। চটজলদি ঘরে থাকা চাল, ডাল মিশিয়ে জমজমাট খিচুড়ি রান্নার আয়োজন চলে। সঙ্গে যদি থাকে বেগুনভাজা, ডিম, ইলিশ মাছ ,গরুর মাংস কিংবা মুরগি, তাহলে তো কথাই নেই। তবে সঙ্গে একটুখানি ভর্তা, ঘি বা আচার এনে দেবে পূর্ণতা।

 

বৃষ্টি এলেই বাঙালির মন খিচুড়ি জন্য যেন আঁকুপাঁকু করতে থাকে। তবে কারও পছন্দ ভুনা খিচুড়ি আবার কারও পছন্দ পাতলা ল্যাটকা খিচুড়ি। অনেকে আবার সবজি বা মাংস মিশিয়েও খিচুড়ি খেতে পছন্দ করেন।

কিন্তু কথা হচ্ছে, এমনটা কেন হয়? বৃষ্টি হলেই কেন খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে?

জানা যায়, খিচুড়ি মূলত বাউলদের খাবার ছিল। বাউলরা পথেঘাটে এ-পাড়া, ও-পাড়া ঘুরে গান শোনাতেন। বিনিময়ে গ্রামবাসীর কাছ থেকে পেতেন চাল আর ডাল। সহজে রান্না করার জন্য এই চাল আর ডাল একসঙ্গে মিশিয়ে রাঁধতেন তারা। পরবর্তী সময়ে যা খিচুড়ি নামে পরিচিতি পায়।

এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে বর্ষার সময় চারপাশ পানিতে ভরে যেত। অথৈ জল, কাদামাটি পাড়ি দিয়ে দূরের বাজারে যাওয়া কষ্টকর ছিল। বাজার যেহেতু করা সম্ভব হতো না, তাই ঘরে থাকার শুকনো চাল আর ডালই ছিল গৃহিণীদের ভরসা। তার ওপর বৃষ্টির কারণে উনুনে আগুন ধরানোও ছিল কষ্টকর। তাই সব মিলিয়ে চাল-ডালের খিচুড়িই রান্না করতেন তারা।

বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর খাবার টেবিলে ধোয়া ওঠা গরম খিচুড়ির সঙ্গে ডিম ভাজা, বেগুন ভাজা আর আচার। আয়োজন আরেকটু বিস্তৃত হলে থাকে মাছ বা মাংসের কোনো পদও। আর এ ধরনের দৃশ্য আমাদের দেশে বেশ পরিচিত। এই যে বৃষ্টি এলেই খিচুড়ি খাচ্ছেন, এটি কি উপকারী? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

পুষ্টি
খিচুড়িতে থাকে পুষ্টির সঠিক সামঞ্জস্য। খিচুড়ি খেলে শরীরে মিলবে শর্করা, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। এটি রান্নায় যদি আপনি নানা ধরনের সবজি যোগ করেন তাহলে এর স্বাদ ও পুষ্টি দুটিই বেড়ে যাবে। সেইসঙ্গে হজমেও হবে সহায়ক। বৃষ্টির দিনে তাই আদর্শ খাবার হতে পারে সবজি খিচুড়ি।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
খিচুড়ি হলো এমন একটি খাবার, যার সঙ্গে বাড়তি কিছু না খেলেও চলে। অর্থাৎ একথালা খিচুড়িতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অনেকটাই পাওয়া যায়। এটি শরীরকে শীতল রাখার পাশাপাশি শরীর থেকে টক্সিন দূর করতেও কাজ করে। পরিপাক প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তবে বাইরে থেকে কিনে না খেয়ে বাড়িতে তৈরি খিচুড়ি খান। এতে সুস্বাস্থ্য বজায় থাকবে।
গ্লুটেনমুক্ত
অনেকে আছেন যারা গ্লুটেনমুক্ত খাবার চিকিৎসকের নিষেধ থাকার কারণে খেতে পারেন না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আপনি খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন খিচুড়ি। এটি আপনার শরীরের নানা ঘাটতি মিটিয়ে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।
বয়স্ক ও শিশুদের জন্য
শিশু কিংবা বয়স্কদের খাবারের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হয়। কারণ তাদের অনেক খাবারই সহ্য হয় না। তাদের জন্য এমন খাবার রান্না করতে হয় যেগুলো নরম ও সহজে হজম উপযোগী। এক্ষেত্রে খিচুড়ি হলো একটি আদর্শ খাবার। কারণ খিচুড়ি নরম হওয়াতে এটি সহজেই খাওয়া যায়। চাইলে একটু পাতলা করেও রান্না করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তির জন্য রান্না করা খিচুড়িতে যেন তেল-মসলা অতিরিক্ত ব্যবহার করা না হয়। অল্প মসলায় রান্না করলে তা সহজপাচ্য হবে।
ট্যাগস :

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

বৃষ্টির সময় কেন খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে?

আপডেট সময় ০৪:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪

বৃষ্টি এলেই মনে প্রফুল্লতা বাড়ার সাথে সাথে যেন বেড়ে যায় মুখের স্বাদ। খেতে ইচ্ছা জাগে যেকোনো মুখোরোচক খাবার। এর মধ্যে খিচুড়ি নামটিই তালিকার প্রথমে চলে আসে। কেন এটি খেতে মন চায় সে এক রহস্য। মেঘলা আকাশ, রিমঝিম বৃষ্টি।

হালকা বাতাসে মন বলে ওঠে আজ পাতে খিচুড়ি না হলেই নয়। চটজলদি ঘরে থাকা চাল, ডাল মিশিয়ে জমজমাট খিচুড়ি রান্নার আয়োজন চলে। সঙ্গে যদি থাকে বেগুনভাজা, ডিম, ইলিশ মাছ ,গরুর মাংস কিংবা মুরগি, তাহলে তো কথাই নেই। তবে সঙ্গে একটুখানি ভর্তা, ঘি বা আচার এনে দেবে পূর্ণতা।

 

বৃষ্টি এলেই বাঙালির মন খিচুড়ি জন্য যেন আঁকুপাঁকু করতে থাকে। তবে কারও পছন্দ ভুনা খিচুড়ি আবার কারও পছন্দ পাতলা ল্যাটকা খিচুড়ি। অনেকে আবার সবজি বা মাংস মিশিয়েও খিচুড়ি খেতে পছন্দ করেন।

কিন্তু কথা হচ্ছে, এমনটা কেন হয়? বৃষ্টি হলেই কেন খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে?

জানা যায়, খিচুড়ি মূলত বাউলদের খাবার ছিল। বাউলরা পথেঘাটে এ-পাড়া, ও-পাড়া ঘুরে গান শোনাতেন। বিনিময়ে গ্রামবাসীর কাছ থেকে পেতেন চাল আর ডাল। সহজে রান্না করার জন্য এই চাল আর ডাল একসঙ্গে মিশিয়ে রাঁধতেন তারা। পরবর্তী সময়ে যা খিচুড়ি নামে পরিচিতি পায়।

এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে বর্ষার সময় চারপাশ পানিতে ভরে যেত। অথৈ জল, কাদামাটি পাড়ি দিয়ে দূরের বাজারে যাওয়া কষ্টকর ছিল। বাজার যেহেতু করা সম্ভব হতো না, তাই ঘরে থাকার শুকনো চাল আর ডালই ছিল গৃহিণীদের ভরসা। তার ওপর বৃষ্টির কারণে উনুনে আগুন ধরানোও ছিল কষ্টকর। তাই সব মিলিয়ে চাল-ডালের খিচুড়িই রান্না করতেন তারা।

বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর খাবার টেবিলে ধোয়া ওঠা গরম খিচুড়ির সঙ্গে ডিম ভাজা, বেগুন ভাজা আর আচার। আয়োজন আরেকটু বিস্তৃত হলে থাকে মাছ বা মাংসের কোনো পদও। আর এ ধরনের দৃশ্য আমাদের দেশে বেশ পরিচিত। এই যে বৃষ্টি এলেই খিচুড়ি খাচ্ছেন, এটি কি উপকারী? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

পুষ্টি
খিচুড়িতে থাকে পুষ্টির সঠিক সামঞ্জস্য। খিচুড়ি খেলে শরীরে মিলবে শর্করা, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। এটি রান্নায় যদি আপনি নানা ধরনের সবজি যোগ করেন তাহলে এর স্বাদ ও পুষ্টি দুটিই বেড়ে যাবে। সেইসঙ্গে হজমেও হবে সহায়ক। বৃষ্টির দিনে তাই আদর্শ খাবার হতে পারে সবজি খিচুড়ি।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
খিচুড়ি হলো এমন একটি খাবার, যার সঙ্গে বাড়তি কিছু না খেলেও চলে। অর্থাৎ একথালা খিচুড়িতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অনেকটাই পাওয়া যায়। এটি শরীরকে শীতল রাখার পাশাপাশি শরীর থেকে টক্সিন দূর করতেও কাজ করে। পরিপাক প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তবে বাইরে থেকে কিনে না খেয়ে বাড়িতে তৈরি খিচুড়ি খান। এতে সুস্বাস্থ্য বজায় থাকবে।
গ্লুটেনমুক্ত
অনেকে আছেন যারা গ্লুটেনমুক্ত খাবার চিকিৎসকের নিষেধ থাকার কারণে খেতে পারেন না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আপনি খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন খিচুড়ি। এটি আপনার শরীরের নানা ঘাটতি মিটিয়ে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।
বয়স্ক ও শিশুদের জন্য
শিশু কিংবা বয়স্কদের খাবারের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হয়। কারণ তাদের অনেক খাবারই সহ্য হয় না। তাদের জন্য এমন খাবার রান্না করতে হয় যেগুলো নরম ও সহজে হজম উপযোগী। এক্ষেত্রে খিচুড়ি হলো একটি আদর্শ খাবার। কারণ খিচুড়ি নরম হওয়াতে এটি সহজেই খাওয়া যায়। চাইলে একটু পাতলা করেও রান্না করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তির জন্য রান্না করা খিচুড়িতে যেন তেল-মসলা অতিরিক্ত ব্যবহার করা না হয়। অল্প মসলায় রান্না করলে তা সহজপাচ্য হবে।