ফ্রান্সের ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ মায়োটে প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় সিদোতে কত মৃত্যু হয়েছে এমন প্রশ্নে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “সব মৃত্যুর হিসাব করা কঠিন হবে। এই পর্যায়ে কোনো সংখ্যা নির্ধারণ করাও সম্ভব না।”

সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, এত মানুষের মৃত্যু এবং ধ্বংসলীলায় রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি সোমবার বলেছেন শীঘ্রই মায়োট পরিদর্শন করবেন এবং শনিবার প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপপুঞ্জটি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়ায় “জাতীয় শোক ঘোষণা করবেন”।
ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় সিদো রাতে ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি বাতাসের বেগ নিয়ে দ্বীপপুঞ্জটিতে আছড়ে পড়ে, এতে মানুষের ঘরবাড়ি, সরকারি ভবন ও হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি দ্বীপপুঞ্জটিতে ৯০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।

মায়োটের রাজধানী মামুদজৌয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাঈল টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেন, “সত্যিকারভাবে আমরা যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তা অত্যন্ত শোচনীয়। আপনার মনে হবে যেন আপনি পারমাণবিক যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে আছেন। আমি একটা পুরো এলাকাকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে দেখেছি।”

ফ্রান্সের পুলিশ উপর থেকে তোলা ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করেছে। তাতে দেখা গেছে, মায়োট দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপের পাহাড়গুলোজুড়ে শত শত অস্থায়ী ঘরের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। নিকটবর্তী কমোরোস দ্বীপপুঞ্জ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীরা ওই পাহাড়গুলোতে এসব অস্থায়ী আবাস তৈরি করে সেখানে থাকছিল।
স্থানীয় গণমাধ্যমে আসা ছবিগুলোতে দেখা গেছে, বহু ভবনের ছাদের ওপর নারিকেল গাছ ভেঙে পড়ে আছে, পুলিশের ডুবে যাওয়া নৌকাগুলো উপকূলে পড়ে আছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে ঠিক কতোজনের মৃত্যু হয়েছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। ঘূর্ণিঝড়ের পর দুর্গত অঞ্চলগুলোতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পাঠানো এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















