চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ইকোনমিক জোন এলাকায় ১১ এপ্রিল ২০২৬-এ একটি চিত্রা হরিণ জবাইয়ের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিন জন ব্যক্তি একটি খালের পানিতে একটি হরিণকে দা দিয়ে জবাই করছে। এ ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সচেতন বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
তীব্র সমালোচনা শুরু হওয়ায় অভিযান শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরতে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনরা উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের একটি পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করে।
উপকূলীয় বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নওশাদ বলেন, ‘মিরসরাই ইকোনমিক জোনের পাশে মুহুরি প্রজেক্ট এলাকায় লোকালয়ের কাছে গতকাল সকালে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই এলাকায় এখন আর তেমন হরিণ নেই।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমরা ধারণা করছি হরিণটি হয়তো পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী রেঞ্জ থেকে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসে স্থানীয় কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছিল। এই সুযোগে ওই তরুনরা হরিণটিকে জবাই করে হত্যা করে।’
নওশাদ বলেন, ওই তরুণরা এখানে কোন কারখানায় কাজ করে। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক আছে। তাদের ধরতে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি এবং এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
তিনি আরো বলেন, “মিরসরাই উপকূলী বনে এক সময় ৫ হাজারেরও অধিক হরিণ বসবাস করতো। ইকোনমিক জোন করার সময় অনেক হরিণ মারা পড়ে। এই এলাকায় বর্তমানে প্রায় ২০০ হরিণ বেঁচে আছে। তারা মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড রেঞ্জের বনে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকে। পথে স্থানীয় কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে মারা যায়।”
উল্লেখ্য, মিরসরাই উপকূলীয় সংরক্ষিত বনের প্রায় ৩০ হাজার একর জমিতে ২০১৫ সাল থেকে ইকোনমিক জোনটি গড়ে তোলার সময় অন্তত ৫ কোটি গাছ কাটা হয়। এতে ওই এলাকার জীববৈচিত্র্য হুমকির মধ্যে পড়ে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















