সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
চ্যানেল আইয়ের ২৬ বছরে পদার্পণ

সবুজ স্বপ্নে রজতজয়ন্তী

সবুজ স্বপ্নে রজতজয়ন্তী

বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল বাংলা টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’ ২৫ বছর পূর্ণ করলো, যা এক যুগান্তকারী মাইলফলক। চ্যানেল আই তার যাত্রা শুরু করেছিল ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে। আজও এই স্লোগান তার অস্তিত্বের মর্মস্পর্শী প্রতিচ্ছবি। চ্যানেল আই শুধু একটি টেলিভিশন চ্যানেল নয়, এটি একটি আবেগ, একটি স্বপ্নের নাম। এটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের একটি শক্তিশালী যোগাযোগের মাধ্যম। দেশ ও প্রকৃতির প্রতি যে ভালোবাসা, তা চ্যানেল আইয়ের প্রতিটি প্রযোজনা ও কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়। সৃজনশীল অনুষ্ঠান, সংবাদ এবং অন্যান্য বহুমুখী উদ্যোগের জন্য চ্যানেল আই সবসময়ই মানুষের মন জয় করেছে।

১৯৯৯ সালের ১ অক্টোবর চ্যানেল আই প্রথমবারের মতো ডিজিটাল স্যাটেলাইট চ্যানেল হিসেবে সম্প্রচার শুরু করে। সেসময়ে আমাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি মাধ্যম তৈরি করা, যা দেশের মানুষকে গণমাধ্যমের শক্তি দিয়ে আলোকিত করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সম্প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করবে। আমাদের সেই স্বপ্ন আজ ২৫ বছর পরও অবিকল আছে, বরং সময়ের সাথে সাথে তা আরও প্রসারিত হয়েছে।

চ্যানেল আইয়ের শুরুর দিনগুলো ছিল চ্যালেঞ্জের। আমাদের হাতে থাকা সীমিত উপকরণ দিয়েই আমরা চেষ্টা করতাম নতুন কিছু করার। ইমপ্রেস গ্রুপের পোশাক শিল্পের অর্থনৈতিক সহযোগিতা তখন ছিল আমাদের মূল চালিকাশক্তি। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা সাহস নিয়ে এগিয়ে যাই। একে একে দর্শকদের জন্য আমরা নতুন অনুষ্ঠানমালা তৈরি করি এবং দেশে টেলিভিশন সম্প্রচারের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করি।

প্রথম থেকেই আমরা চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে শুধু বিনোদন নয়, বরং মানুষের কল্যাণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কাজ করার সংকল্প নিয়েছিলাম। সেই লক্ষ্যে ‘প্রকৃতি ও জীবন’ নামে প্রথম প্রকৃতিবিষয়ক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান শুরু করি। আমরা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে প্রকৃতি ও জীবন অনুষ্ঠানের বিশেষ আয়োজন ‘অ্যাডভেঞ্চার অ্যারাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড’। নানা দেশের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে তুলে ধরা হচ্ছে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।

সবুজ স্বপ্নে রজতজয়ন্তী prokritibarta channel i

শুধু ‘প্রকৃতি ও জীবন’ অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন’ পরিবেশ সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। গবেষণা কার্যক্রম, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, গাছ লাগানো, বন সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, দূষণ রোধ এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি—এসব মূল লক্ষ্য নিয়ে ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, ভিয়েনা জ্যু, টারটেল সারভাইভাল এলায়েন্স এবং বাংলাদেশ বন বিভাগ সম্মিলিতভাবে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এবং সুন্দরবনের করমজলে বিলুপ্তপ্রায় বাটাগুর বাসকা কাছিম (বড় কাইট্টা) সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ (সেভিং এশিয়া’স ভালচার ফ্রম এক্সটিংশান)-এর সহযোগী সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের মহাবিপন্ন শকুন সংরক্ষণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশের পরিযায়ী জলচর পাখি গণনা, গবেষণা ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে এই ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সঙ্গে প্রতিবছর উপকূলীয় জলচর পাখিশুমারি পরিচালনা করছে।

দেশজুড়ে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে প্রতিষ্ঠা করা হয় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব। এটি স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও ক্লাবের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে গত বছর প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব সারাদেশে ১০ লক্ষাধিক গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করেছে। চলতি বছরও এই কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

সবুজ স্বপ্নে রজতজয়ন্তী prokritibarta channel i

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন ঢাকার অদূরে সাভারের গেণ্ডা এলাকায় ২০১২ সালের ২১ জুন প্রতিষ্ঠা করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা সেখানে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলাতে ক্যাম্প করে দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। স্কুলের শিশুদের নিয়মিত দেয়া হচ্ছে খাদ্য ও শিক্ষাসামগ্রী। শীত, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় মানুষদের দেয়া হয় শীতবস্ত্র ও ত্রাণ। দেশের প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষের জন্য জীবিকার বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন ও টেকসই জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২২ সাল থেকে পরিচালিত হচ্ছে ‘পরিবেশবান্ধব বিকল্প আয়’ কার্যক্রম। এ কর্মসূচির আওতায় গরু ও ছাগল পালন, টেইলারিং শপ, মুদি দোকান, ক্ষুদ্র ব্যবসায় উদ্যোগ, ইজিবাইক, মৎস্য চাষ ইত্যাদি বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বন্যপ্রাণী, পরিবেশ ও জলবায়ুসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন নিয়মিত বই প্রকাশ করছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বইগুলো দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে আগামী প্রজন্ম সচেতন হয়ে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে। ফাউন্ডেশনের একটি চমৎকার প্রকাশনা শিশুতোষ বই ‘পেঁচার পাঁচালি’। বইটি বিশেষ ভাবে রচিত হয়েছে, যেন শিশুকাল থেকেই প্রকৃতির প্রতি মমত্ব, বন ও বন্যপ্রাণীর প্রতি তাদের ভালোবাসা তৈরি হয় এবং তাদের সংরক্ষণে সচেতনতা জাগ্রত হয়। এছাড়াও বিশ্বের সমস্ত শিশুদের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ‘পেঁচার পাঁচালি’র গল্পগুলো কার্টুন সিরিজ আকারে নির্মিত হয়ে নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে চ্যানেল আইতে।

প্রকৃতি ও পরিবেশের নানা উপাদান এবং গুরুত্ব সম্পর্কে সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে প্রতিবছর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘প্রকৃতিমেলা’। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে দিনব্যাপী এ মেলায় প্রকৃতিবিষয়ক সংগীত, নাটিকা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, জারিগান, গম্ভীরা, কবিগান, পটের গান, পুঁথিপাঠ, পুতুল নাচ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নৃত্য পরিবেশন করা হয়। সর্বস্তরের জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে আমরা প্রতি বছর আয়োজন করছি প্রজাপতি মেলা, পরিযায়ী পাখি মেলাসহ নানা কার্যক্রম।

সবুজ স্বপ্নে রজতজয়ন্তী prokritibarta channel i

দেশের অনেকেই ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিবছর এমন একজন প্রকৃতি অন্তঃপ্রাণ ব্যক্তিকে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক’ প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের পরিবেশ ও প্রকৃতির সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে ম্যাগাজিন ‘প্রকৃতিবার্তা’। দেশবিদেশের প্রকৃতিবিষয়ক সাম্প্রতিক সংবাদ প্রকাশের জন্য চালু করা হয়েছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রকৃতিবার্তা ডটকম (prokritibarta.com)।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশের একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন রূপরেখা সম্মেলন (ইউএনএফসিসিসি), সংক্ষেপে কপ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে আসছে। এর মাধ্যমে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন কর্মকাণ্ড, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সচেতনতামূলক বার্তা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।

সংগীতের মাধ্যমে পরিবেশ ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ‘জীবন রাঙাই সবুজ সুরের মূর্ছনায়’ স্লোগানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাব’। এ সংগঠনের লক্ষ্য হলো সংগীতানুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিচর্চা ও পরিবেশবিষয়ক গণসচেতনতা সৃষ্টি করা।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের নানামুখী উদ্যোগ, কর্মসূচি এবং দেশের পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমগুলো ‘প্রকৃতি সংবাদ’ শিরোনামে নিয়মিত চ্যানেল আইতে প্রচারিত হচ্ছে। এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এই বার্তা পৌঁছানো সক্ষম হয় যে, পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটা আমাদের সবার দায়িত্ব।

গত ২৫ বছরে চ্যানেল আই তার বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রকৃতি, কৃষি, ঐতিহ্যবাহী রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠান—সবক্ষেত্রেই চ্যানেল আই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের অনুষ্ঠানমালা যেমন বিনোদনকেন্দ্রিক, তেমনি জ্ঞানভিত্তিক এবং শিক্ষামূলক।

হৃদয়ে মাটি ও মানুষ, তৃতীয় মাত্রা, সেরাকণ্ঠ, ক্ষুদে গানরাজ, বাংলাবিদ—এসব অনুষ্ঠানের প্রতিটিই নিজস্ব ধারায় অনন্য। গ্রামীণ কৃষকদের জীবনের বাস্তবতা, কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন এবং সামাজিক পরিবর্তনের জন্য আমাদের অনুষ্ঠানগুলো অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। দেশের মানুষের দুঃখ-কষ্ট এবং সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে আমরা জাতির বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করে চলেছি।

সবুজ স্বপ্নে রজতজয়ন্তী prokritibarta channel i

চ্যানেল আই কখনো শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, প্রকৃতি, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরার অঙ্গীকার আমরা শুরু থেকেই রেখেছি। একবিংশ শতাব্দীর গণমাধ্যম হিসেবে আমরা সামাজিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় বিজয় মেলা, প্রকৃতি মেলা, রবীন্দ্র মেলা, নজরুল মেলাসহ নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছি, যা আমাদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করছি আমরা, কিন্তু এই যাত্রার সমাপ্তি এখানেই নয়। আমরা জানি, এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা আমাদের অনুষ্ঠানমালা এবং সম্প্রচারের মান উন্নত করার চেষ্টা করছি। নতুন প্রজন্মের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমাদের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি। সেই ধারাবাহিকতায় ‘বিনোদনের স্মার্ট দুনিয়া’ স্লোগান নিয়ে চ্যানেল আইয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্প্রতি যাত্রা শুরু করেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘আইস্ক্রিন’।

রজতজয়ন্তী একটি বিশেষ মাইলফলক। এটি আমাদের অর্জন এবং সাফল্যের প্রতিচ্ছবি। এই দীর্ঘ যাত্রায় যারা পাশে ছিলেন—আমাদের দর্শক, বিজ্ঞাপনদাতা, সহযোগী এবং চ্যানেল আইয়ের প্রতিটি কর্মী—তাদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের চ্যানেলের এই অর্জনের পেছনে যে কঠোর পরিশ্রম, মেধা এবং নিষ্ঠা রয়েছে, তা অনস্বীকার্য। ভবিষ্যতেও আমরা দেশ এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’কে ধারণ করে দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জনের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে চলা।

এই রজতজয়ন্তীতে আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখছি—একটি সবুজ, সমৃদ্ধশালী ও সৃষ্টিশীল বাংলাদেশের, যেখানে মানুষ এবং প্রকৃতি একসঙ্গে উন্নতির পথে হাঁটবে। আমরা সবুজের স্বপ্ন দেখছি, যা চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

 

লেখক: ভাইস চেয়ারম্যান, ইমপ্রেস গ্রুপ। চেয়ারম্যান, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

চ্যানেল আইয়ের ২৬ বছরে পদার্পণ

সবুজ স্বপ্নে রজতজয়ন্তী

আপডেট সময় ০৪:২৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০২৪

বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল বাংলা টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’ ২৫ বছর পূর্ণ করলো, যা এক যুগান্তকারী মাইলফলক। চ্যানেল আই তার যাত্রা শুরু করেছিল ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে। আজও এই স্লোগান তার অস্তিত্বের মর্মস্পর্শী প্রতিচ্ছবি। চ্যানেল আই শুধু একটি টেলিভিশন চ্যানেল নয়, এটি একটি আবেগ, একটি স্বপ্নের নাম। এটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের একটি শক্তিশালী যোগাযোগের মাধ্যম। দেশ ও প্রকৃতির প্রতি যে ভালোবাসা, তা চ্যানেল আইয়ের প্রতিটি প্রযোজনা ও কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়। সৃজনশীল অনুষ্ঠান, সংবাদ এবং অন্যান্য বহুমুখী উদ্যোগের জন্য চ্যানেল আই সবসময়ই মানুষের মন জয় করেছে।

১৯৯৯ সালের ১ অক্টোবর চ্যানেল আই প্রথমবারের মতো ডিজিটাল স্যাটেলাইট চ্যানেল হিসেবে সম্প্রচার শুরু করে। সেসময়ে আমাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি মাধ্যম তৈরি করা, যা দেশের মানুষকে গণমাধ্যমের শক্তি দিয়ে আলোকিত করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সম্প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করবে। আমাদের সেই স্বপ্ন আজ ২৫ বছর পরও অবিকল আছে, বরং সময়ের সাথে সাথে তা আরও প্রসারিত হয়েছে।

চ্যানেল আইয়ের শুরুর দিনগুলো ছিল চ্যালেঞ্জের। আমাদের হাতে থাকা সীমিত উপকরণ দিয়েই আমরা চেষ্টা করতাম নতুন কিছু করার। ইমপ্রেস গ্রুপের পোশাক শিল্পের অর্থনৈতিক সহযোগিতা তখন ছিল আমাদের মূল চালিকাশক্তি। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা সাহস নিয়ে এগিয়ে যাই। একে একে দর্শকদের জন্য আমরা নতুন অনুষ্ঠানমালা তৈরি করি এবং দেশে টেলিভিশন সম্প্রচারের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করি।

প্রথম থেকেই আমরা চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে শুধু বিনোদন নয়, বরং মানুষের কল্যাণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কাজ করার সংকল্প নিয়েছিলাম। সেই লক্ষ্যে ‘প্রকৃতি ও জীবন’ নামে প্রথম প্রকৃতিবিষয়ক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান শুরু করি। আমরা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে প্রকৃতি ও জীবন অনুষ্ঠানের বিশেষ আয়োজন ‘অ্যাডভেঞ্চার অ্যারাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড’। নানা দেশের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে তুলে ধরা হচ্ছে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।

সবুজ স্বপ্নে রজতজয়ন্তী prokritibarta channel i

শুধু ‘প্রকৃতি ও জীবন’ অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন’ পরিবেশ সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। গবেষণা কার্যক্রম, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, গাছ লাগানো, বন সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, দূষণ রোধ এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি—এসব মূল লক্ষ্য নিয়ে ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, ভিয়েনা জ্যু, টারটেল সারভাইভাল এলায়েন্স এবং বাংলাদেশ বন বিভাগ সম্মিলিতভাবে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এবং সুন্দরবনের করমজলে বিলুপ্তপ্রায় বাটাগুর বাসকা কাছিম (বড় কাইট্টা) সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ (সেভিং এশিয়া’স ভালচার ফ্রম এক্সটিংশান)-এর সহযোগী সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের মহাবিপন্ন শকুন সংরক্ষণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশের পরিযায়ী জলচর পাখি গণনা, গবেষণা ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে এই ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সঙ্গে প্রতিবছর উপকূলীয় জলচর পাখিশুমারি পরিচালনা করছে।

দেশজুড়ে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে প্রতিষ্ঠা করা হয় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব। এটি স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও ক্লাবের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে গত বছর প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব সারাদেশে ১০ লক্ষাধিক গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করেছে। চলতি বছরও এই কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

সবুজ স্বপ্নে রজতজয়ন্তী prokritibarta channel i

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন ঢাকার অদূরে সাভারের গেণ্ডা এলাকায় ২০১২ সালের ২১ জুন প্রতিষ্ঠা করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা সেখানে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলাতে ক্যাম্প করে দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। স্কুলের শিশুদের নিয়মিত দেয়া হচ্ছে খাদ্য ও শিক্ষাসামগ্রী। শীত, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় মানুষদের দেয়া হয় শীতবস্ত্র ও ত্রাণ। দেশের প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষের জন্য জীবিকার বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন ও টেকসই জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২২ সাল থেকে পরিচালিত হচ্ছে ‘পরিবেশবান্ধব বিকল্প আয়’ কার্যক্রম। এ কর্মসূচির আওতায় গরু ও ছাগল পালন, টেইলারিং শপ, মুদি দোকান, ক্ষুদ্র ব্যবসায় উদ্যোগ, ইজিবাইক, মৎস্য চাষ ইত্যাদি বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বন্যপ্রাণী, পরিবেশ ও জলবায়ুসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন নিয়মিত বই প্রকাশ করছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বইগুলো দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে আগামী প্রজন্ম সচেতন হয়ে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে। ফাউন্ডেশনের একটি চমৎকার প্রকাশনা শিশুতোষ বই ‘পেঁচার পাঁচালি’। বইটি বিশেষ ভাবে রচিত হয়েছে, যেন শিশুকাল থেকেই প্রকৃতির প্রতি মমত্ব, বন ও বন্যপ্রাণীর প্রতি তাদের ভালোবাসা তৈরি হয় এবং তাদের সংরক্ষণে সচেতনতা জাগ্রত হয়। এছাড়াও বিশ্বের সমস্ত শিশুদের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ‘পেঁচার পাঁচালি’র গল্পগুলো কার্টুন সিরিজ আকারে নির্মিত হয়ে নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে চ্যানেল আইতে।

প্রকৃতি ও পরিবেশের নানা উপাদান এবং গুরুত্ব সম্পর্কে সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে প্রতিবছর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘প্রকৃতিমেলা’। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে দিনব্যাপী এ মেলায় প্রকৃতিবিষয়ক সংগীত, নাটিকা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, জারিগান, গম্ভীরা, কবিগান, পটের গান, পুঁথিপাঠ, পুতুল নাচ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নৃত্য পরিবেশন করা হয়। সর্বস্তরের জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে আমরা প্রতি বছর আয়োজন করছি প্রজাপতি মেলা, পরিযায়ী পাখি মেলাসহ নানা কার্যক্রম।

সবুজ স্বপ্নে রজতজয়ন্তী prokritibarta channel i

দেশের অনেকেই ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিবছর এমন একজন প্রকৃতি অন্তঃপ্রাণ ব্যক্তিকে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক’ প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের পরিবেশ ও প্রকৃতির সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে ম্যাগাজিন ‘প্রকৃতিবার্তা’। দেশবিদেশের প্রকৃতিবিষয়ক সাম্প্রতিক সংবাদ প্রকাশের জন্য চালু করা হয়েছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রকৃতিবার্তা ডটকম (prokritibarta.com)।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশের একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন রূপরেখা সম্মেলন (ইউএনএফসিসিসি), সংক্ষেপে কপ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে আসছে। এর মাধ্যমে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন কর্মকাণ্ড, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সচেতনতামূলক বার্তা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।

সংগীতের মাধ্যমে পরিবেশ ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ‘জীবন রাঙাই সবুজ সুরের মূর্ছনায়’ স্লোগানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাব’। এ সংগঠনের লক্ষ্য হলো সংগীতানুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিচর্চা ও পরিবেশবিষয়ক গণসচেতনতা সৃষ্টি করা।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের নানামুখী উদ্যোগ, কর্মসূচি এবং দেশের পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমগুলো ‘প্রকৃতি সংবাদ’ শিরোনামে নিয়মিত চ্যানেল আইতে প্রচারিত হচ্ছে। এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এই বার্তা পৌঁছানো সক্ষম হয় যে, পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটা আমাদের সবার দায়িত্ব।

গত ২৫ বছরে চ্যানেল আই তার বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রকৃতি, কৃষি, ঐতিহ্যবাহী রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠান—সবক্ষেত্রেই চ্যানেল আই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের অনুষ্ঠানমালা যেমন বিনোদনকেন্দ্রিক, তেমনি জ্ঞানভিত্তিক এবং শিক্ষামূলক।

হৃদয়ে মাটি ও মানুষ, তৃতীয় মাত্রা, সেরাকণ্ঠ, ক্ষুদে গানরাজ, বাংলাবিদ—এসব অনুষ্ঠানের প্রতিটিই নিজস্ব ধারায় অনন্য। গ্রামীণ কৃষকদের জীবনের বাস্তবতা, কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন এবং সামাজিক পরিবর্তনের জন্য আমাদের অনুষ্ঠানগুলো অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। দেশের মানুষের দুঃখ-কষ্ট এবং সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে আমরা জাতির বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করে চলেছি।

সবুজ স্বপ্নে রজতজয়ন্তী prokritibarta channel i

চ্যানেল আই কখনো শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, প্রকৃতি, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরার অঙ্গীকার আমরা শুরু থেকেই রেখেছি। একবিংশ শতাব্দীর গণমাধ্যম হিসেবে আমরা সামাজিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় বিজয় মেলা, প্রকৃতি মেলা, রবীন্দ্র মেলা, নজরুল মেলাসহ নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছি, যা আমাদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করছি আমরা, কিন্তু এই যাত্রার সমাপ্তি এখানেই নয়। আমরা জানি, এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা আমাদের অনুষ্ঠানমালা এবং সম্প্রচারের মান উন্নত করার চেষ্টা করছি। নতুন প্রজন্মের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমাদের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি। সেই ধারাবাহিকতায় ‘বিনোদনের স্মার্ট দুনিয়া’ স্লোগান নিয়ে চ্যানেল আইয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্প্রতি যাত্রা শুরু করেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘আইস্ক্রিন’।

রজতজয়ন্তী একটি বিশেষ মাইলফলক। এটি আমাদের অর্জন এবং সাফল্যের প্রতিচ্ছবি। এই দীর্ঘ যাত্রায় যারা পাশে ছিলেন—আমাদের দর্শক, বিজ্ঞাপনদাতা, সহযোগী এবং চ্যানেল আইয়ের প্রতিটি কর্মী—তাদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের চ্যানেলের এই অর্জনের পেছনে যে কঠোর পরিশ্রম, মেধা এবং নিষ্ঠা রয়েছে, তা অনস্বীকার্য। ভবিষ্যতেও আমরা দেশ এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’কে ধারণ করে দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জনের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে চলা।

এই রজতজয়ন্তীতে আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখছি—একটি সবুজ, সমৃদ্ধশালী ও সৃষ্টিশীল বাংলাদেশের, যেখানে মানুষ এবং প্রকৃতি একসঙ্গে উন্নতির পথে হাঁটবে। আমরা সবুজের স্বপ্ন দেখছি, যা চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

 

লেখক: ভাইস চেয়ারম্যান, ইমপ্রেস গ্রুপ। চেয়ারম্যান, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন।