সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

সাহারা মরুভূমিতে বন্যা!

সাহারা মরুভূমিতে বন্যা!

চারদিকে কেবল বালু, দিনে প্রখর রোদ, সবুজের দেখা কদাচিৎ মিললেও কেবল ঝোপঝাড়। পানির দেখা পাওয়া খুবই কঠিন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মরুভূমি সাহারার এই রূপ। তবে এবার এক ভিন্ন রূপ দেখা গেল সেখানে। সাব-সাহারান দেশগুলোর মধ্যে মরক্কো একটি। মরক্কোর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে দুই দিন ধরে ব্যাপক বৃষ্টির কারণে সাহারা মরুভূমির কিছু অংশে মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছে। মরুভূমি এলাকায় এ ধরনের আকস্মিক বন্যার ঘটনা বিরল।

নাসার স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে শুকিয়ে যাওয়া জাগোরা ও টাটা এলাকার মধ্যে ইরিকুয়ি নামের শুকনো হ্রদটি পানিতে ভরে গেছে।

মরক্কোর আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তা হুসেইন ইয়াবেব বলেন, গত ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এত কম সময়ে এত বেশি বৃষ্টি দেখিনি।

দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে মরক্কোর বন্যায় ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগের বছরে সেখানে ব্যাপক ভূমিকম্পের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি মানুষ। গত সেপ্টেম্বরে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে মরক্কোয় বাঁধ দিয়ে তৈরি জলাধারগুলো সব পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।

এর আগে, পর পর ছয় বছর খরার প্রকোপে ভুগতে হয় মরক্কোর বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে।  চাষবাস ছেড়ে কৃষকরা শহরে চলে যান। গ্রামে গ্রামে বৃষ্টির পানি মজুত করার কাজও শুরু হয়। সেপ্টেম্বরে অতিবৃষ্টির পর অনেকেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। এতে মরুভূমির নীচে, ভূগর্ভের পানিরস্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী তাঁরা।

যদিও সাহারা মরুভূমিতে অতিবৃষ্টি এবং বন্যার খবরে অশনি সঙ্কেতও দেখছেন অনেকে। বৃষ্টির পর এত দ্রুত রুক্ষ অঞ্চলে গাছপালা গজিয়ে ওঠা বা বন্যার নজির নেই। এর নেপথ্যে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবর্তন শীল আবহাওয়া রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আফ্রিকায় বর্ষার চরিত্রবদল ঘটেছে বলেও দাবি তাঁদের। ইতিহাস বলছে, পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম মরুভূমি সাহারা একসময় সবুজ বনভূমি ছিল। ঘন জঙ্গল, হাজার হাজার হ্রদ ছিল সেখানে। খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ সাল থেকে বর্ষা ক্রমশ দক্ষিণে সরে যেতে শুরু করে, তাতেই ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হয় সাহারা। গত ১৩ হাজার বছর ধরে সাহারা মরুভূমি রূপেই বিরাজ করছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, প্রতি ২০ বছর পর পর সাহারা চরিত্রগত পরিবর্তন ঘটে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

সাহারা মরুভূমিতে বন্যা!

আপডেট সময় ১১:৪৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪

চারদিকে কেবল বালু, দিনে প্রখর রোদ, সবুজের দেখা কদাচিৎ মিললেও কেবল ঝোপঝাড়। পানির দেখা পাওয়া খুবই কঠিন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মরুভূমি সাহারার এই রূপ। তবে এবার এক ভিন্ন রূপ দেখা গেল সেখানে। সাব-সাহারান দেশগুলোর মধ্যে মরক্কো একটি। মরক্কোর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে দুই দিন ধরে ব্যাপক বৃষ্টির কারণে সাহারা মরুভূমির কিছু অংশে মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছে। মরুভূমি এলাকায় এ ধরনের আকস্মিক বন্যার ঘটনা বিরল।

নাসার স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে শুকিয়ে যাওয়া জাগোরা ও টাটা এলাকার মধ্যে ইরিকুয়ি নামের শুকনো হ্রদটি পানিতে ভরে গেছে।

মরক্কোর আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তা হুসেইন ইয়াবেব বলেন, গত ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এত কম সময়ে এত বেশি বৃষ্টি দেখিনি।

দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে মরক্কোর বন্যায় ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগের বছরে সেখানে ব্যাপক ভূমিকম্পের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি মানুষ। গত সেপ্টেম্বরে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে মরক্কোয় বাঁধ দিয়ে তৈরি জলাধারগুলো সব পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।

এর আগে, পর পর ছয় বছর খরার প্রকোপে ভুগতে হয় মরক্কোর বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে।  চাষবাস ছেড়ে কৃষকরা শহরে চলে যান। গ্রামে গ্রামে বৃষ্টির পানি মজুত করার কাজও শুরু হয়। সেপ্টেম্বরে অতিবৃষ্টির পর অনেকেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। এতে মরুভূমির নীচে, ভূগর্ভের পানিরস্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী তাঁরা।

যদিও সাহারা মরুভূমিতে অতিবৃষ্টি এবং বন্যার খবরে অশনি সঙ্কেতও দেখছেন অনেকে। বৃষ্টির পর এত দ্রুত রুক্ষ অঞ্চলে গাছপালা গজিয়ে ওঠা বা বন্যার নজির নেই। এর নেপথ্যে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবর্তন শীল আবহাওয়া রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আফ্রিকায় বর্ষার চরিত্রবদল ঘটেছে বলেও দাবি তাঁদের। ইতিহাস বলছে, পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম মরুভূমি সাহারা একসময় সবুজ বনভূমি ছিল। ঘন জঙ্গল, হাজার হাজার হ্রদ ছিল সেখানে। খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ সাল থেকে বর্ষা ক্রমশ দক্ষিণে সরে যেতে শুরু করে, তাতেই ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হয় সাহারা। গত ১৩ হাজার বছর ধরে সাহারা মরুভূমি রূপেই বিরাজ করছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, প্রতি ২০ বছর পর পর সাহারা চরিত্রগত পরিবর্তন ঘটে।