কলমের মতো দেখতে নোবেল পেন ঝিনুক, এখন মহাবিপন্ন

“নোবেল ঝিনুক” বা পিন্না নোবিলিস  হলো ভূমধ্যসাগরের একটি বিশাল আকৃতির ঝিনুক প্রজাতি, যা পেন শেল (Pen Shell) নামেও পরিচিত। এদের খোলসগুলো অনেকটা প্রাচীনকালের লেখার পালকের কলম  বা পেন্সিলের মতো লম্বা ও সুচালো হয় বলে ইংরেজিতে এদের সাধারণ নাম “পেন শেল” রাখা হয়েছে।

 

এটি প্রায় ১২০ সেমি (৪ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

 

নোবেল ঝিনুক বর্তমানে একটি পরজীবী প্রোটোজোয়ান সংক্রমণের কারণে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। পরিবেশ দূষণ, অতিরিক্ত আহরণ এবং এই মরণব্যাধির প্রভাবে এদের জনসংখ্যা প্রায় ৯৯% হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে এটি আইইউসিএন রেড লিস্টে “মহাবিপন্ন” হিসেবে তালিকাভুক্ত।

বিলুপ্তির কারণ ও বর্তমান অবস্থা:

  • পরজীবী সংক্রমণ: ২০১৬ সাল থেকে হাপলোস্পোরিডিয়াম পিনে নামের একটি পরজীবী প্রোটোজোয়ান ভূমধ্যসাগরের নোবেল ঝিনুকগুলোকে ব্যাপকভাবে হত্যা করছে।
  • বাসস্থান ধ্বংস: উপকূলীয় দূষণ, সমুদ্রে নোঙর ফেলা এবং পানির গুণমান হ্রাসের ফলে এদের প্রজনন ও বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
  • অতিরিক্ত আহরণ: পূর্বে এর শাঁস ও সুতার (sea silk) জন্য অতিরিক্ত আহরণ এদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে।

সংরক্ষণের প্রচেষ্টা:

  • বিজ্ঞানীরা পরজীবী-প্রতিরোধী ঝিনুকগুলো চিহ্নিত করে তাদের কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পুনরুৎপাদনের চেষ্টা করছেন।
  • কুইরেন্টাইন বা সংরক্ষিত এলাকা তৈরি করে এদের বংশবৃদ্ধির জন্য কাজ চলছে।

এই অনন্য সামুদ্রিক প্রাণীটি বিলুপ্ত হলে তা পুরো ভূমধ্যসাগরের বাস্তুতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

বজ্রপাতে একদিনে দেশজুড়ে ১২ প্রাণহানি  

কলমের মতো দেখতে নোবেল পেন ঝিনুক, এখন মহাবিপন্ন

আপডেট সময় ০৩:২৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

“নোবেল ঝিনুক” বা পিন্না নোবিলিস  হলো ভূমধ্যসাগরের একটি বিশাল আকৃতির ঝিনুক প্রজাতি, যা পেন শেল (Pen Shell) নামেও পরিচিত। এদের খোলসগুলো অনেকটা প্রাচীনকালের লেখার পালকের কলম  বা পেন্সিলের মতো লম্বা ও সুচালো হয় বলে ইংরেজিতে এদের সাধারণ নাম “পেন শেল” রাখা হয়েছে।

 

এটি প্রায় ১২০ সেমি (৪ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

 

নোবেল ঝিনুক বর্তমানে একটি পরজীবী প্রোটোজোয়ান সংক্রমণের কারণে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। পরিবেশ দূষণ, অতিরিক্ত আহরণ এবং এই মরণব্যাধির প্রভাবে এদের জনসংখ্যা প্রায় ৯৯% হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে এটি আইইউসিএন রেড লিস্টে “মহাবিপন্ন” হিসেবে তালিকাভুক্ত।

বিলুপ্তির কারণ ও বর্তমান অবস্থা:

  • পরজীবী সংক্রমণ: ২০১৬ সাল থেকে হাপলোস্পোরিডিয়াম পিনে নামের একটি পরজীবী প্রোটোজোয়ান ভূমধ্যসাগরের নোবেল ঝিনুকগুলোকে ব্যাপকভাবে হত্যা করছে।
  • বাসস্থান ধ্বংস: উপকূলীয় দূষণ, সমুদ্রে নোঙর ফেলা এবং পানির গুণমান হ্রাসের ফলে এদের প্রজনন ও বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
  • অতিরিক্ত আহরণ: পূর্বে এর শাঁস ও সুতার (sea silk) জন্য অতিরিক্ত আহরণ এদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে।

সংরক্ষণের প্রচেষ্টা:

  • বিজ্ঞানীরা পরজীবী-প্রতিরোধী ঝিনুকগুলো চিহ্নিত করে তাদের কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পুনরুৎপাদনের চেষ্টা করছেন।
  • কুইরেন্টাইন বা সংরক্ষিত এলাকা তৈরি করে এদের বংশবৃদ্ধির জন্য কাজ চলছে।

এই অনন্য সামুদ্রিক প্রাণীটি বিলুপ্ত হলে তা পুরো ভূমধ্যসাগরের বাস্তুতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।