বিয়ে মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মহান আল্লাহ তায়ালাই জোড়া মিলিয়ে রেখেছেন। প্রয়োজন শুধু খুঁজে নেওয়ার, দোয়া করার। বর্তমানে অনেক পরিবার সঠিক সময়ে বিয়ে দিচ্ছে না তরুণ-তরুণীদের। যার কারণে গুনাহে জড়িয়ে পড়ছেন অনেকেই।
সন্তান সাবালক হলে বিয়ে না করালে সে যে গুনাহগুলোতে জড়াবে আপনিও তার ভাগিদার হবেন এটা অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে। যার সামর্থ আছে তাকে অবশ্যই বিয়ে করিয়ে দেয়া বাবা-মায়ের কর্তব্য।
পবিত্র কুরআন মাজীদে মহান আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেন, ‘তোমরা তাদের অভিভাবকদের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে কর, যথাযথভাবে তাদের মোহর প্রদান কর, যেন তারা বিয়ের দুর্গে সুরক্ষিত হয়ে থাকতে পারে এবং অবাধ যৌনচর্চা ও গোপন বন্ধুত্বে লিপ্ত হয়ে না পড়ে।’ (সূরা নিসা, আয়াত : ২৫)।
বিয়ে করা আল্লাহর রসুলগণের চিরায়িত নীতি। এ হিসাবে এটি সুন্নাত। তবে, ব্যক্তি বিশেষের অবস্থা অনুযায়ী এটি নানা পর্যায়ে রূপ নেয়। যেমন, সাধারণত বিবাহ সুন্নাত। কোনো ব্যক্তির চারিত্রিক স্খলন বা বড় গুনাহর সম্ভাবনা দেখা দিলে বিয়ে করা ফরজ। যার মধ্যে স্ত্রীর নানাবিধ হক বা অধিকার দেওয়ার মোটেও যোগ্যতা নেই, তার পক্ষে বিবাহ করা নাজায়েজ। ক্ষেত্র বিশেষে বিবাহ ওয়াজিব, নফল ও মুস্তাহাবও হয়ে থাকে। (জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামি ফিক্হ ও ফাতওয়া বিশ্বকোষ)
গুনাহ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকলে সামর্থ্য অর্জনের পাশাপাশি রোজা রাখা। সাহাবি হজরত আব্দুলাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিয়ের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিয়ে করে, আর যে ব্যক্তি বিয়ের সামর্থ্য না রাখে সে যেন রোজা পালন করে। কেননা রোজা তার কামভাবকে দমন করবে।’ (নাসায়ি, হাদিস : ২২৪১)
বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে নারীকে করা হয়েছে পুরুষের জীবন সঙ্গিণী ও অর্ধাঙ্গিণী। কারণ পুরুষ নিজ জীবনে আপন ভুবনে স্বয়ং সম্পূর্ণ নয় বলেই একজন সহযোগীর প্রতি একান্ত মুখাপেক্ষী, নারীর অবর্তমানে পুরুষের হৃদয় শূন্য কোঠা সমতুল্য। একজন সুস্থ সবল, সতী সাধী ধর্মপরায়ণ নারীকে বিবাহবন্ধনের মাধ্যমেই কেবল তার এ শূন্যকোঠা পূর্ণ হতে পারে। সৃষ্টির আদিকাল থেকেই নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক ও পরিপোষক।
ডেস্ক রিপোর্ট 



















