তৃতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশের আশার আলো ছিলেন মাহমুদুল হাসান জয় ও মুশফিকুর রহিম। দুজনই দলকে হতাশ করলেও অভিষিক্ত জাকের আলি অনিককে নিয়ে খাঁদের কিনারা থেকে লড়াই শুরু করলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। সঙ্গী হারালেও আলো স্বল্পতায় আগেভাগেই শেষ হওয়া তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখলেন আরও একটি লড়াকু ফিফটি করা মিরাজ।
বৃষ্টির কারণে এক দফায় খেলা বন্ধের পর আলো স্বল্পনার কারণে খানিকের জন্য চা বিরতির পর খেলা হলেও প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই শেষ হয়েছে তৃতীয় দিনের খেলা। তাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২৮৩। লিড ৮১ রানের।
ক্রিজে আছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি হাঁকানো মিরাজ (৮৭*) ও নাঈম হাসান (১৬*)। চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হবে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে।
৩ উইকেটে ১০১ রান দিয়ে খেলা শুরু করা বাংলাদেশের ইনিংস পরাজয় এড়াতেই দরকার ছিল আরও ১০১ রান। আগের দিন বিকেলে মাহমুদুল হাসান জয় ও মুশফিকুর রহিম যেভাবে ব্যাট করেছেন, তাতে তৃতীয় দিন তাদের ব্যাট থেকে বড় ইনিংসের আশায় ছিল বাংলাদেশ। তবে একে একে দুজনই করেন হতাশ।
দিনের পঞ্চম ওভারে ঠিক প্রথম দিনের মতোই এক স্পেলে বাংলাদেশকে মুহূর্তেই ব্যাকফুটে ঠেলে দেন কাগিসো রাবাদা। অফস্ট্যাম্পের বেশ বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন দুই ইনিংসে ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হওয়া জয়। প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে করতে পারেন ৪০ রানে।
এই রেশ কাটিয়ে ওঠার আগেই এক বল বাদেই ফের রাবাদার আঘাত। এবার আরও বড় উইকেট। আগেরদিনই টেস্টে ৬ হাজার রানের ক্লাবে পা রাখা মুশফিকুরকে যেন প্রথম ইনিংসের কপি করে আরও একবার আউট করেন অভিজ্ঞ এই পেসার। লেন্থ ডেলিভারি ধরতে ব্যর্থ হয়ে ডিফেন্ড করতে গিয়ে ব্যর্থ হন মুশফিকুর (৩৩ রান)। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে উড়ে যায় মিডল স্ট্যাম্প। প্রথম ইনিংসেও মুশফিকুরকে বোল্ড করেছিলেন তিনি।
হতাশাময় ভারত সিরিজের পর এই টেস্টেও টানা দ্বিতীয় ইনিংসে দলকে বিপদে ফেলে লিটন দাস আউট হয়ে যান লিটন দাস। কেশভ মহারাজের টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে ব্লক করতে চেয়েছিলেন, তবে ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ যায় কিপারের হাতে। সেই সময়ে বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে মাত্র ১১২।
এরপরই শুরু হয় মিরাজ ও জাকেরের লড়াই। টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ইনিংসে ভালো না করলেই দ্বিতীয় দফায় দলের আস্থার দারুণ প্রতিদানই দেন জাকের। মিরাজকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত আর উইকেট না পড়তে দিয়ে গড়েন মহামূল্যবান এক জুটি।
বিরতির আগেই কয়েকটি আগ্রাসী শট খেলে মিরাজ করেন আরও একটি ফিফটি। এর মধ্য দিয়ে তিনি এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানস্কোরারের পাশাপাশি হয়ে যান সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকার করা খেলোয়াড়ও।
বিরতির পর একটু একটু করে দেখেশুনে খেলে এগিয়ে যাওয়া জাকের আলিও দেখা পেয়ে যান ফিফটির। প্রথম ইনিংসে বাজে শটে আউট হলেই এই ইনিংসে লক্ষ্যে অবিচল থেকে খেলেছেন ভালো একটি ইনিংস। তবে মহারাজের স্কিড করা এক ডেলিভারিতে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে শেষ হয় তার পথচলা। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে করেন ৫৮ রান।
তবে একপ্রান্ত আগলে মিরাজ চালিয়ে যান তার লড়াই। অফ স্পিনার নাঈমও টুকটাক ভালোই অবদান রাখেন। বৃষ্টির বাগড়ায় চা বিরতির আগে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় দুজন এগিয়ে নিচ্ছিলেন লিড।
এরপর আলো স্বল্পতার কারণে দুই প্রান্ত থেকে স্পিনার দিয়ে খেলা চালানোর শর্তে কয়েক ওভার ম্যাচ চলে। তবে কিছুক্ষণ বাদেই সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত দিনের খেলার সমাপ্তিও হয় সেখানেই।
ডেস্ক রিপোর্ট 


























