ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে শনিবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলায় ইরানের চার সেনা নিহত ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেহরান, খুজেস্তান ও ইলাম প্রদেশে এবার হামলা করেছে ইসরায়েল। এসব হামলা সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলার দাবি করছে দেশটির সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে কিছু জায়গায় ‘সামান্য ক্ষতি’ হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত মিডিয়ায় বিভিন্ন শহরে স্বাভাবিক চিত্র আছে এমন দৃশ্য প্রদর্শন করেছে। স্কুল ও খেলাধুলাও স্বাভাবিক চলছে বলে এসব খবরে দেখানো হয়।

ইরানের সামরিক বাহিনী বলেছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইলাম, খুজেস্তান এবং তেহরানের আশেপাশের প্রদেশে সীমান্ত রাডার সিস্টেমে আঘাত করার জন্য ‘খুব হালকা ওয়ারহেড’ ব্যবহার করেছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলের বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। যে কয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে তাতে কিছু জায়গায় ‘খুব সামান্য ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
তবে ইসরায়েলি হামলার ছবি প্রকাশ করেছে একটি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট। মার্কিন দুই গবেষকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হযেছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত সলিড ফুয়েল ভবনকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি ফাইটারজেট।

দুই গবেষকের একজন হলেন জাতিসংঘের সাবেক ওয়েপন ইন্সপেক্টর এবং ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি রিসার্সের প্রধান ডেভিড আলব্রাইট। অন্যজন হলেন ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ অ্যানালাইসিস এট সিএনএ’র ডেকার ইভিলেনথ।
তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরানের কাছে একটি সামরিক ভবনে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইভিলেনত বলেন, ইসরায়েল তেহরানের কাছে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র খোজিরে হামলা চালিয়েছে। এতে কেন্দ্রটির উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, গত ১ অক্টোবর ইরানের চালানো দুই শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানা এবং তেহেরানের আশপাশসহ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে হামলা চালায়।
ডেস্ক রিপোর্ট 



















