সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কাপ্তাইয়ে আহত লজ্জাবতী উদ্ধার করে চিকিৎসার পর অবমুক্ত Logo পরিবেশ ধ্বংসের বাস্তবচিত্র: ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্যের ভাগাড়! Logo প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকা থেকে জরুরি সহায়তা যাচ্ছে ইরানে Logo পরিবেশ ধ্বংসের বাস্তবচিত্র: ইটভাটার ধোঁয়ায় প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধান নষ্ট Logo প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত Logo তাপপ্রবাহ চলবে আরও ২-৩ দিন, এরপরেই স্বস্তির বৃষ্টির আভাস Logo রাজশাহীতে মাঝারি তাপপ্রবাহ, দেশজুড়ে ২৭ জেলায় প্রায় একই অবস্থা Logo প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. সাইমুম পারভেজ Logo সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড রাজশাহীতে, ২৪ জেলায় তাপপ্রবাহ Logo ধরিত্রী দিবসে বরিশালে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এবং জেআইএসসি’র সবুজ আয়োজন

জানেন কি সমুদ্রে আছে দানবীয় তেলাপোকা?

ফেসবুক রিলস অথবা ইউটিউবে বিখ্যাত ফুড ভ্লগিং চ্যানেল বেস্ট এভার ফুড রিভিউতে হয়তো আপনারা অনেকেই দানবীয় এক তেলাপোকার মতো দেখতে সামুদ্রিক জীবকে রান্না করে খেতে দেখেছেন। দেখতে তেলাপোকার মতো এই জীবের নামও সি-ককরোচ অর্থাৎ সামুদ্রিক তেলাপোকা। খুব বেশিদিন হয়নি এই ভয়ঙ্কর দেখতে সামুদ্রিক জীবটি শনাক্ত করে নামকরণ করা হয়েছে।

এই সামুদ্রিক তেলাপোকা শনাক্ত করেন সিংগাপুরের একদল সমুদ্রগবেষক। ২০২০ সালের জুলাইতে বিশ্বগণমাধ্যমে জায়ান্ট সি-ককরোচ শনাক্তের খবর প্রকাশিত হয়। এখন সেটি সর্বভূক ভোজনরসিক চাইনিজ-জাপানিজদের পাতে! এমনকি ইন্দোনেশিয়াতেও এই সামুদ্রিক তেলাপোকা খাওয়া হচ্ছে।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিংগাপুরের গবেষকরা ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা উপকূলে গভীর সমুদ্রে ১৪ দিনের অভিযানের সময় ১২ হাজারেরও বেশি গভীর সমুদ্রের প্রাণী সংগ্রহ করেছিল – যার মধ্যে বিশাল তেলাপোকা ছিল একটি।

১৪ পায়ের আইসোপদ গোত্রের ওই তেলাপোকার নাম দেয়া হয় ব্যাথিনোমাস রাকসাসা। ইন্দোনেশীয় ভাষায় রাকসাসা মানে রাক্ষস বা দানব! দানবীয় তেলাপোকার উপযুক্ত নাম বটে!

ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেসের (এলআইপিআই) শীর্ষ গবেষক কনি মার্গারেথা সিদাবালক বলেন, “নতুন পাওয়া প্রাণীটি আসলেই অতিকায় এবং ব্যাথিনোমাস প্রজাতির মধ্যে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ জীব।”

পৃথিবীতে অতিদানব আইসোপড প্রজাতির সাতটি প্রাণীর কথা জানা যায়। তবে এই প্রথম ইন্দোনেশিয়ার গভীর সমুদ্রে অতিদানবাকৃতির সাত জোড়া পা বিশিষ্ট এই প্রজাতির প্রাণী পাওয়া গেল। বিজ্ঞানীদের দলটি এক বিজ্ঞান সাময়িকীতে লিখেছেন ওই এলাকায় এ ধরনের প্রাণী নিয়ে গবেষণা হয়েছে খুবই কম।

এলআইপিআই সংস্থার জীববিজ্ঞান বিভাগের অস্থায়ী প্রধান ক্যাথিও রাহামাদি বলছেন, “এই অবিষ্কার এটাই প্রমাণ করে যে ইন্দোনেশিয়ায় জীববৈচিত্রের ব্যাপকতার খোঁজ মানুষ এখনো পায়নি। বিশাল সম্ভাবনাময় এই জগতটা সম্পর্কে আমাদের ধারণাই নেই।”

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম বলছে, গভীর সমুদ্রের আইসোপড কেন এত বিশালাকৃতির হয় সে সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।

একটা হলো, সমুদ্রের অত গভীরে বেঁচে থাকতে হলে প্রাণীকে প্রচুর অক্সিজেন শরীরে সঞ্চিত রাখতে হয়। ফলে তাদের দেহ বিশাল আকারের হতে হয় এবং তাদের লম্বা পা থাকার প্রয়োজন হয়। অন্য ব্যাখ্যা হলো, গভীর সমুদ্রে তাদের কোনরকম শিকারীর হাতে পড়ার ভয় থাকে না, কাজেই তারা নির্ভয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।

ব্যাথিনোমাস প্রজাতির প্রাণীর লম্বা শুঁড় থাকে এবং থাকে প্রকাণ্ড বড় চোখ। এ কারণে অন্ধকারের মধ্যেও তারা নিজেদের এলাকায় স্বচ্ছন্দে এবং নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে। চেহারা অতিদানবীয় বা ভয়াবহ হলেও তারা কিন্তু আচরণে আসলে ততটা ভয়ঙ্কর নয়।

প্রাণীটি ঘুরে বেড়ায় গভীর সমুদ্রে, মহাসাগরের তলদেশ থেকে কুড়িয়ে বাড়িয়ে খায়, মরা জীবজন্তুর দেহাবশেষ থেকে তারা খাদ্য সংগ্রহ করে।

লন্ডনের ইতিহাস বিষয়ক যাদুঘর বলছে তাদের পরিপাক যন্ত্র খুবই শ্লথ। তারা যা খায় তা হজম করতে তাদের অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। জাপানে দেখা গেছে খাঁচায় রাখা এই অতিকায় দানব আইসোপড প্রাণী না খেয়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

কাপ্তাইয়ে আহত লজ্জাবতী উদ্ধার করে চিকিৎসার পর অবমুক্ত

জানেন কি সমুদ্রে আছে দানবীয় তেলাপোকা?

আপডেট সময় ০৭:১৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪

ফেসবুক রিলস অথবা ইউটিউবে বিখ্যাত ফুড ভ্লগিং চ্যানেল বেস্ট এভার ফুড রিভিউতে হয়তো আপনারা অনেকেই দানবীয় এক তেলাপোকার মতো দেখতে সামুদ্রিক জীবকে রান্না করে খেতে দেখেছেন। দেখতে তেলাপোকার মতো এই জীবের নামও সি-ককরোচ অর্থাৎ সামুদ্রিক তেলাপোকা। খুব বেশিদিন হয়নি এই ভয়ঙ্কর দেখতে সামুদ্রিক জীবটি শনাক্ত করে নামকরণ করা হয়েছে।

এই সামুদ্রিক তেলাপোকা শনাক্ত করেন সিংগাপুরের একদল সমুদ্রগবেষক। ২০২০ সালের জুলাইতে বিশ্বগণমাধ্যমে জায়ান্ট সি-ককরোচ শনাক্তের খবর প্রকাশিত হয়। এখন সেটি সর্বভূক ভোজনরসিক চাইনিজ-জাপানিজদের পাতে! এমনকি ইন্দোনেশিয়াতেও এই সামুদ্রিক তেলাপোকা খাওয়া হচ্ছে।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিংগাপুরের গবেষকরা ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা উপকূলে গভীর সমুদ্রে ১৪ দিনের অভিযানের সময় ১২ হাজারেরও বেশি গভীর সমুদ্রের প্রাণী সংগ্রহ করেছিল – যার মধ্যে বিশাল তেলাপোকা ছিল একটি।

১৪ পায়ের আইসোপদ গোত্রের ওই তেলাপোকার নাম দেয়া হয় ব্যাথিনোমাস রাকসাসা। ইন্দোনেশীয় ভাষায় রাকসাসা মানে রাক্ষস বা দানব! দানবীয় তেলাপোকার উপযুক্ত নাম বটে!

ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেসের (এলআইপিআই) শীর্ষ গবেষক কনি মার্গারেথা সিদাবালক বলেন, “নতুন পাওয়া প্রাণীটি আসলেই অতিকায় এবং ব্যাথিনোমাস প্রজাতির মধ্যে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ জীব।”

পৃথিবীতে অতিদানব আইসোপড প্রজাতির সাতটি প্রাণীর কথা জানা যায়। তবে এই প্রথম ইন্দোনেশিয়ার গভীর সমুদ্রে অতিদানবাকৃতির সাত জোড়া পা বিশিষ্ট এই প্রজাতির প্রাণী পাওয়া গেল। বিজ্ঞানীদের দলটি এক বিজ্ঞান সাময়িকীতে লিখেছেন ওই এলাকায় এ ধরনের প্রাণী নিয়ে গবেষণা হয়েছে খুবই কম।

এলআইপিআই সংস্থার জীববিজ্ঞান বিভাগের অস্থায়ী প্রধান ক্যাথিও রাহামাদি বলছেন, “এই অবিষ্কার এটাই প্রমাণ করে যে ইন্দোনেশিয়ায় জীববৈচিত্রের ব্যাপকতার খোঁজ মানুষ এখনো পায়নি। বিশাল সম্ভাবনাময় এই জগতটা সম্পর্কে আমাদের ধারণাই নেই।”

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম বলছে, গভীর সমুদ্রের আইসোপড কেন এত বিশালাকৃতির হয় সে সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।

একটা হলো, সমুদ্রের অত গভীরে বেঁচে থাকতে হলে প্রাণীকে প্রচুর অক্সিজেন শরীরে সঞ্চিত রাখতে হয়। ফলে তাদের দেহ বিশাল আকারের হতে হয় এবং তাদের লম্বা পা থাকার প্রয়োজন হয়। অন্য ব্যাখ্যা হলো, গভীর সমুদ্রে তাদের কোনরকম শিকারীর হাতে পড়ার ভয় থাকে না, কাজেই তারা নির্ভয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।

ব্যাথিনোমাস প্রজাতির প্রাণীর লম্বা শুঁড় থাকে এবং থাকে প্রকাণ্ড বড় চোখ। এ কারণে অন্ধকারের মধ্যেও তারা নিজেদের এলাকায় স্বচ্ছন্দে এবং নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে। চেহারা অতিদানবীয় বা ভয়াবহ হলেও তারা কিন্তু আচরণে আসলে ততটা ভয়ঙ্কর নয়।

প্রাণীটি ঘুরে বেড়ায় গভীর সমুদ্রে, মহাসাগরের তলদেশ থেকে কুড়িয়ে বাড়িয়ে খায়, মরা জীবজন্তুর দেহাবশেষ থেকে তারা খাদ্য সংগ্রহ করে।

লন্ডনের ইতিহাস বিষয়ক যাদুঘর বলছে তাদের পরিপাক যন্ত্র খুবই শ্লথ। তারা যা খায় তা হজম করতে তাদের অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। জাপানে দেখা গেছে খাঁচায় রাখা এই অতিকায় দানব আইসোপড প্রাণী না খেয়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।