সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কাপ্তাইয়ে আহত লজ্জাবতী উদ্ধার করে চিকিৎসার পর অবমুক্ত Logo পরিবেশ ধ্বংসের বাস্তবচিত্র: ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্যের ভাগাড়! Logo প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকা থেকে জরুরি সহায়তা যাচ্ছে ইরানে Logo পরিবেশ ধ্বংসের বাস্তবচিত্র: ইটভাটার ধোঁয়ায় প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধান নষ্ট Logo প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত Logo তাপপ্রবাহ চলবে আরও ২-৩ দিন, এরপরেই স্বস্তির বৃষ্টির আভাস Logo রাজশাহীতে মাঝারি তাপপ্রবাহ, দেশজুড়ে ২৭ জেলায় প্রায় একই অবস্থা Logo প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. সাইমুম পারভেজ Logo সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড রাজশাহীতে, ২৪ জেলায় তাপপ্রবাহ Logo ধরিত্রী দিবসে বরিশালে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এবং জেআইএসসি’র সবুজ আয়োজন

মাধবকুণ্ড ইকো পার্কেও নিরাপদে নেই লজ্জাবতী বানর!

মাধবকুণ্ড ইকো পার্কেও নিরাপদে নেই লজ্জাবতী বানর!

বাংলাদেশের বন্যপ্রাণীদের মধ্যে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বিভাগের চিরসবুজ বনে থাকে অদ্ভুত সুন্দর এক প্রাণী। ভীষণ মুখচোরা স্বভাব, ঘন বনে বসবাস এবং স্বভাবে নিশাচর এই প্রাণীর দেখা পাওয়া বেশ কঠিন। প্রাণীটির নাম লজ্জাবতী বানর, ইংরেজি নাম বেঙ্গল স্লো লরিস। মানুষ এড়িয়ে চলা এই প্রাণীর আশ্রয়স্থল সংকুচিত হতে হতে আজ এরা বিলুপ্তির কাছাকাছি। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন) লজ্জাবতী বানরকে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত  করেছে। তবু মাঝে মাঝে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, শেরপুরের চিরসবুজ বনে এদের দেখা মিলছে। খাবার খুঁজতে এসে, কুকুরের আক্রমণ, মানুষের তাড়া খেয়ে আহত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এরকম কিছু আহত লজ্জাবতী বানরকে লাউয়াছড়া, মাধবকুণ্ড ইকো পার্কসহ কয়েকটি অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে।  কিন্তু এই মাধবকুণ্ড ইকো পার্কেই এবার এক লজ্জাবতী বানরকে মরে পড়ে থাকতে দেখা গেল!

ইকো পার্কে কিভাবে প্রাণ হারালো লজ্জাবতী বানরটি? স্থানীয়দের ধারণা নিশাচর প্রাণীটি রাতে খাবার সন্ধানে বের হয়ে সম্ভবত ইকো পার্কের ভেতরে থাকা বিদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে মারা গেছে। কারণ এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করাদের একাধিক সূত্র বলছে, মৌলভীবাজার জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তারে আহত লজ্জাবতী বানর ধরা পড়ছে।

 

এক গবেষণাতেও লজ্জাবতী বানরদের বড় বিপদের কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ তারের বিষয়টি উঠে এসেছে। লজ্জাবতী বানরের গবেষক হাসান আল-রাজীর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জের সাতছড়ি, রেমা-কালেঙ্গা ও মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া ও আদমপুর বনে এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

 

এতে তারা দেখতে পান, এই সব বনগুলোতে লজ্জাবতী বানরের প্রধান হুমকি হলো বনের মাঝের সড়ক এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের তার। এর আগেও বনের ভিতরে থাকা রাস্তায় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের তারে তড়িতায়িত হয়ে লজ্জাবতী বানরের প্রাণ হারানোর ঘটনার কথা শোনা গেছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রানী সেবা ফাউন্ডেশ (শ্রীমঙ্গল) পরিচালক সজল দেব জানান, ২০২০ সালেও বিদ্যুতে পুড়ে যাওয়া ২টি এবং খাবারের সন্ধানে বনের বাইরে চলে আসা দুইটি আহত বানরকে উদ্ধ্বার করে তারা সুস্থ করে তোলেন।

 

সেবছরই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, শ্রীমঙ্গলের আশেপাশের এলাকা থেকে  বেশ কিছু আহত লজ্জাবতি বানর উদ্ধার করা হয়, এগুলো সড়ক ও বিদ্যুতের তারের কারণে আহত হয়েছিল। সেসময় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ) রেজাউল করিম চৌধুরীর জানিয়েছিলেন ‘যেকোন বনের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরা লাইন না নেয়াই ভাল। যদি নিতেই হয় তাহলে অবশ্যই রাবার দিয়ে বিদ্যুতের তার মুড়ে দিতে হয়। বানর জাতীয় প্রাণীর জন্য উন্মুক্ত তার সব চেয়ে বেশি বিপজ্জনক।’

 

বন বিভাগ, স্থানীয় সচেতন মহল এবং প্রাণীপ্রেমীদের আশা- মাধবকুণ্ড ইকো পার্কসহ সব অভয়ারণ্যের ভেতর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে যেন প্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। আর তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিভাগের। এখন যেসব তার উন্মুক্ত আছে সেসব যেন দ্রুত রাবার দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

সংক্ষেপে লজ্জাবতী বানর পরিচিতি

 

লজ্জাবতী বানর (Slow loris)  Primates বর্গের অন্তর্গত Loridae গোত্রের সদস্য। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Nycticebus bengalensis ।

লজ্জাবতী বানরের মাথাসহ দেহ ৩৩ সেমি লম্বা এবং ওজন প্রায় ১.২ কেজি। দেহ হালকা বাদামি থেকে ধূসর রঙের ছোট নরম পশম দ্বারা আবৃত। এদের মাথা গোলাকৃতি, বাদামি রঙের বলয়যুক্ত পেঁচার মতো চোখ, পশমের মধ্যে প্রায় ঢেকে থাকা খাটো লেজ এবং মাথার ওপর থেকে পিঠ পর্যন্ত লম্বা বাদামি দাগ দেখতে পাওয়া যায়।

লজ্জাবতী বানর নিশাচর প্রাণী। চিরসবুজ বনে এদের বসবাস, দিনে গাছের ছায়ায়, গুঁড়ির খোঁড়লে এরা ঘুমায়। গতিতে এরা কিছুটা শ্লথ, তবে এদের আঁকড়ে ধরার ক্ষমতা বেশ শক্তিশালী। রাতের সক্রিয় সময়ের মাঝখানে বড় একটা সময় এরা ব্যয় করে ঘুরে বেড়ানোয়। খাবার সংগ্রহ ও খাওয়া এবং বিশ্রামের জন্য, এরা প্রায় একই সমান সময় ব্যয় করে। গবেষণায় দেখা গেছে মহিলা লজ্জাবতী বানর পুরুষের তুলনায় বেশি ঘুমায় এবং বিশ্রামও নেয় বেশি সময়। আর শীতকালে এলে গ্রীষ্মকাল থেকে আরও শ্লথগতির হয়ে যায় লজ্জাবতী বানর। অন্য সময়ের চেয়ে চলাফেরা অনেক কমিয়ে দেয়। আর রাতে সক্রিয় থাকাকালীন প্রাকৃতিক বনেই বেশি থাকে।

 

প্রাকৃতিক বনে জিকা, বহেরা, রঙ্গি গাছের আঠা এদের প্রধান খাবার। জিকার আঠা এরা খুবই পছন্দ করে। এছাড়া মুকুল, ফল, সন্ধিপদ প্রাণী এবং পাখির ডিম খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

কাপ্তাইয়ে আহত লজ্জাবতী উদ্ধার করে চিকিৎসার পর অবমুক্ত

মাধবকুণ্ড ইকো পার্কেও নিরাপদে নেই লজ্জাবতী বানর!

আপডেট সময় ০৭:১১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

বাংলাদেশের বন্যপ্রাণীদের মধ্যে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বিভাগের চিরসবুজ বনে থাকে অদ্ভুত সুন্দর এক প্রাণী। ভীষণ মুখচোরা স্বভাব, ঘন বনে বসবাস এবং স্বভাবে নিশাচর এই প্রাণীর দেখা পাওয়া বেশ কঠিন। প্রাণীটির নাম লজ্জাবতী বানর, ইংরেজি নাম বেঙ্গল স্লো লরিস। মানুষ এড়িয়ে চলা এই প্রাণীর আশ্রয়স্থল সংকুচিত হতে হতে আজ এরা বিলুপ্তির কাছাকাছি। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন) লজ্জাবতী বানরকে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত  করেছে। তবু মাঝে মাঝে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, শেরপুরের চিরসবুজ বনে এদের দেখা মিলছে। খাবার খুঁজতে এসে, কুকুরের আক্রমণ, মানুষের তাড়া খেয়ে আহত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এরকম কিছু আহত লজ্জাবতী বানরকে লাউয়াছড়া, মাধবকুণ্ড ইকো পার্কসহ কয়েকটি অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে।  কিন্তু এই মাধবকুণ্ড ইকো পার্কেই এবার এক লজ্জাবতী বানরকে মরে পড়ে থাকতে দেখা গেল!

ইকো পার্কে কিভাবে প্রাণ হারালো লজ্জাবতী বানরটি? স্থানীয়দের ধারণা নিশাচর প্রাণীটি রাতে খাবার সন্ধানে বের হয়ে সম্ভবত ইকো পার্কের ভেতরে থাকা বিদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে মারা গেছে। কারণ এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করাদের একাধিক সূত্র বলছে, মৌলভীবাজার জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তারে আহত লজ্জাবতী বানর ধরা পড়ছে।

 

এক গবেষণাতেও লজ্জাবতী বানরদের বড় বিপদের কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ তারের বিষয়টি উঠে এসেছে। লজ্জাবতী বানরের গবেষক হাসান আল-রাজীর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জের সাতছড়ি, রেমা-কালেঙ্গা ও মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া ও আদমপুর বনে এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

 

এতে তারা দেখতে পান, এই সব বনগুলোতে লজ্জাবতী বানরের প্রধান হুমকি হলো বনের মাঝের সড়ক এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের তার। এর আগেও বনের ভিতরে থাকা রাস্তায় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের তারে তড়িতায়িত হয়ে লজ্জাবতী বানরের প্রাণ হারানোর ঘটনার কথা শোনা গেছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রানী সেবা ফাউন্ডেশ (শ্রীমঙ্গল) পরিচালক সজল দেব জানান, ২০২০ সালেও বিদ্যুতে পুড়ে যাওয়া ২টি এবং খাবারের সন্ধানে বনের বাইরে চলে আসা দুইটি আহত বানরকে উদ্ধ্বার করে তারা সুস্থ করে তোলেন।

 

সেবছরই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, শ্রীমঙ্গলের আশেপাশের এলাকা থেকে  বেশ কিছু আহত লজ্জাবতি বানর উদ্ধার করা হয়, এগুলো সড়ক ও বিদ্যুতের তারের কারণে আহত হয়েছিল। সেসময় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ) রেজাউল করিম চৌধুরীর জানিয়েছিলেন ‘যেকোন বনের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরা লাইন না নেয়াই ভাল। যদি নিতেই হয় তাহলে অবশ্যই রাবার দিয়ে বিদ্যুতের তার মুড়ে দিতে হয়। বানর জাতীয় প্রাণীর জন্য উন্মুক্ত তার সব চেয়ে বেশি বিপজ্জনক।’

 

বন বিভাগ, স্থানীয় সচেতন মহল এবং প্রাণীপ্রেমীদের আশা- মাধবকুণ্ড ইকো পার্কসহ সব অভয়ারণ্যের ভেতর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে যেন প্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। আর তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিভাগের। এখন যেসব তার উন্মুক্ত আছে সেসব যেন দ্রুত রাবার দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

সংক্ষেপে লজ্জাবতী বানর পরিচিতি

 

লজ্জাবতী বানর (Slow loris)  Primates বর্গের অন্তর্গত Loridae গোত্রের সদস্য। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Nycticebus bengalensis ।

লজ্জাবতী বানরের মাথাসহ দেহ ৩৩ সেমি লম্বা এবং ওজন প্রায় ১.২ কেজি। দেহ হালকা বাদামি থেকে ধূসর রঙের ছোট নরম পশম দ্বারা আবৃত। এদের মাথা গোলাকৃতি, বাদামি রঙের বলয়যুক্ত পেঁচার মতো চোখ, পশমের মধ্যে প্রায় ঢেকে থাকা খাটো লেজ এবং মাথার ওপর থেকে পিঠ পর্যন্ত লম্বা বাদামি দাগ দেখতে পাওয়া যায়।

লজ্জাবতী বানর নিশাচর প্রাণী। চিরসবুজ বনে এদের বসবাস, দিনে গাছের ছায়ায়, গুঁড়ির খোঁড়লে এরা ঘুমায়। গতিতে এরা কিছুটা শ্লথ, তবে এদের আঁকড়ে ধরার ক্ষমতা বেশ শক্তিশালী। রাতের সক্রিয় সময়ের মাঝখানে বড় একটা সময় এরা ব্যয় করে ঘুরে বেড়ানোয়। খাবার সংগ্রহ ও খাওয়া এবং বিশ্রামের জন্য, এরা প্রায় একই সমান সময় ব্যয় করে। গবেষণায় দেখা গেছে মহিলা লজ্জাবতী বানর পুরুষের তুলনায় বেশি ঘুমায় এবং বিশ্রামও নেয় বেশি সময়। আর শীতকালে এলে গ্রীষ্মকাল থেকে আরও শ্লথগতির হয়ে যায় লজ্জাবতী বানর। অন্য সময়ের চেয়ে চলাফেরা অনেক কমিয়ে দেয়। আর রাতে সক্রিয় থাকাকালীন প্রাকৃতিক বনেই বেশি থাকে।

 

প্রাকৃতিক বনে জিকা, বহেরা, রঙ্গি গাছের আঠা এদের প্রধান খাবার। জিকার আঠা এরা খুবই পছন্দ করে। এছাড়া মুকুল, ফল, সন্ধিপদ প্রাণী এবং পাখির ডিম খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।