মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের ৫৩তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ। বিজয় চূড়ান্ত হওয়ার মাত্র ৬ দিন পূর্বে ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর খুলনার রূপসায় সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন এই বীর যোদ্ধা।
ওই হামলায় সেদিন একই সঙ্গে শহীদ হয়েছিলেন বীর বিক্রম মহিবুল্লাহসহ আরো ৮ মুক্তিযোদ্ধা। বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন ছিলেন অদম্য এক সাহসী যোদ্ধা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়, রুহুল আমিন তাদের অন্যতম।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের বাগপাঁচড়া (বর্তমানে শহীদ রুহুল আমিন নগর) গ্রামে ১৯৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন রুহুল আমিন। মাতা জুলেখা খাতুন ও পিতা মোহাম্মদ আজাহার পাটোয়ারি। ৩ ভাই ও ৪ বোন নিয়ে ছিলো তাদের সংসার।
শিক্ষা জীবন শুরু করেন বাগপাঁচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তারপর ভর্তি হন আমিশাপাড়া কৃষক উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৯৫১ সালে নৌ-বাহিনীতে নায়েক হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধে ২নং সেক্টরে যুদ্ধরত রুহুল আমিন ছিলেন নৌ-বাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘পলাশ’ এর প্রধান ইঞ্জিনরুমে আর্টিফিসার।
বাঙালীর চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র ছয় দিন পূর্বে ডিসেম্বর মাসের ১০ তারিখে খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছে অধিনায়কের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ অমান্য করে রূপসা নদীতে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ পলাশকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় এ বীর শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও মহান আত্মত্যাগের জন্য তাকে স্বীকৃতি স্বরূপ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















