রাষ্ট্রীয় সফরে সম্প্রতি নর্থ কোরিয়া সফরে গিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সাথে করেন প্রতিরক্ষা চুক্তি। এরপর সেখান থেকে যান ভিয়েতনামে।
পুতিনের এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলোর মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় রাশিয়ার যেকোন জায়গায় হামলা চালাতে ইউক্রেনকে অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের মুখেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের গ্রহণযোগ্যতা দেখাতে নর্থ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম সফরে যান বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্ব যেভাবে সম্মিলিতভাবে ইউক্রেনকে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে, ঠিক সেই মডেলেই নর্থ কোরিয়াকে সহায়তা করতে এক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন তিনি। এই চুক্তির ব্যাপক সমালোচনা করেছে সাউথ কোরিয়া।
চুক্তির আওতায় এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশ তার সহায়তায় এগিয়ে আসবে। এরপর ভিয়েতনাম সফরে গিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া নর্থ কোরিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে। বিশেষ করে সাউথ কোরিয়া ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করলে সেটা বিশাল এক ‘ভুল’ হবে বলেও তিনি হুমকি দিয়েছেন৷

রুশ প্রেসিডেন্ট এমন সম্ভাবনার কথা বলায় মার্কিন প্রশাসন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, এমন পদক্ষেপ নিলে গোটা কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা বিপন্ন হবে। এমনকি নর্থ কোরিয়াকে বিশেষ ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবও লঙ্ঘন করা হবে। মিলার বলেন, স্থায়ী সদস্য হিসেবে রাশিয়াও সেই প্রস্তাব সমর্থন করেছিল।
হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, পুতিনের এই ঘোষণার ফলে উদ্বেগ সত্ত্বেও বিস্ময়ের কোনো কারণ নেই। তার মতে, রাশিয়া মরিয়া হয়ে বৈদেশিক সহায়তার সন্ধান করছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরেই রাশিয়া ও নর্থ কোরিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বেড়ে চলেছে। মস্কোর এমন পদক্ষেপ সম্পর্কে চীনেরও উদ্বেগ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র বেইজিংকে নর্থ কোরিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর অনুরোধ করে আসছে। কিন্তু রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা বাড়লে নর্থ কোরিয়ার ওপর চীনের প্রভাব কমে যেতে পারে। বিশেষ করে নর্থ কোরিয়া আবার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করলে গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে, যাতে চীনের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে কিরবি মনে করছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, পিয়ং ইয়ং এখন রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধবিমান, সারফেস টু এয়ার মিসাইল, সাঁজোয়া গাড়ি, ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বা উপকরণ চাইতে পারে।
অন্যদিকে, ভিয়েতনাম সফরে গিয়ে দেশটির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির সাথে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করা রাশিয়ার অন্যতম অগ্রাধিকার। যুক্তরাষ্ট্র এই সফরের সমালোচনা করে বলেছে, প্রেসিডেন্ট পুতিনের ভিয়েতনামে সরকারি সফর তাকে বিচ্ছিন্ন করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে তুলবে।
যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে রাশিয়ার যেকোন জায়গায় মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেনকে অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ইউক্রেনের হামলা এখন শুধুমাত্র আর খারকিভ এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।
একটি সূত্র দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনকে সরবরাহ করা অস্ত্রের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের নীতির কোনো পরিবর্তন নয়। মে মাসের শেষ দিকে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, রাশিয়ার ভূখণ্ডে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোর জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গোপনে ইউক্রেনকে সবুজ সংকেত দিয়েছে। তবে রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরে আঘাত হানার জন্য দীর্ঘ পাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
বাইডেন বলেছিলেন, মার্কিন নির্মিত অস্ত্র ইউক্রেন শুধু ব্যবহার করতে পারবে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায়। আমেরিকা ইউক্রেনকে ২০০ মাইল পাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না। সেসময় বাইডেন বলেছিলেন, আমরা মস্কো কিংবা ক্রেমলিনের ওপর হামলা চালানোর কর্তৃত্ব দিচ্ছি না ইউক্রেনকে।
তবে এবার হয়ত পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার ইউক্রেনকে সেই অনুমতি দিল যুক্তরাষ্ট্র।
নিজস্ব সংবাদ : 
























