দক্ষিণ কোরিয়ায় হঠাৎ করেই সামরিক আইন জারি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করা হয়। মঙ্গলবার (০৩ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে দেশটিতে সামরিক আইন জারির পর পার্লামেন্ট সদস্যদের বিরোধিতা ও দেশটির বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে সেটি প্রত্যাহার করেন ইউন। তবে বুধবার নিজের পদ নিয়েই অস্তিত্বের হুমকিতে পড়লেন তিনি। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের একটি জোট জানিয়েছে, তারা বুধবার ইউনের অভিশংসনের জন্য একটি বিল প্রস্তাব করার পরিকল্পনা করেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই বিলের ওপর ভোট হবে।
এ নিয়ে এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হলো।
বিরোধী জোটের একজন সংসদ সদস্য হোয়াং উন-হা সাংবাদিকদের বলেন, সংসদকে প্রেসিডেন্টের কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে হবে এবং দ্রুত অভিশংসনের বিল পাস করতে হবে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যরাতে আকস্মিকভাবে দেশে সামরিক আইন জারি করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। তিনি যুক্তি দেন: দেশের মুক্ত ও সাংবিধানিক শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন যে বিরোধী দলগুলো সংসদীয় প্রক্রিয়াকে জিম্মি করে দেশকে সংকটে ফেলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট বাহিনীর হুমকি থেকে মুক্ত কোরিয়ান প্রজাতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, আমাদের জনগণের স্বাধীনতা ও সুখ লুটে নেয়া নিকৃষ্ট উত্তর কোরিয়াপন্থী রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলো নির্মূল করার জন্য এবং মুক্ত সাংবিধানিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সামরিক আইন জারি করছি।
তবে হঠাৎ সামরিক শাসন জারির আদেশ মেনে নেননি দক্ষিণ কোরিয়ার এমপিরা। সামরিক আইন জারির পর দেশটির পার্লামেন্ট ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পার্লামেন্টের বাইরে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তাদের স্লোগান দিতে শোনা যায়। একপর্যায়ে কিছু সময়ের জন্য পার্লামেন্ট ভবনে সেনাবাহিনীও প্রবেশ করে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেও রাতেই নিরাপত্তা বাহিনীকে এড়িয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে সক্ষম হন ১৯০ জন আইনপ্রণেতা। তারা সামরিক আইন জারির বিরুদ্ধে ভোট দেন।
পরে সামরিক আইন জারির আদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। এ বিষয়ে পার্লামেন্টে ভোটের পর তিনি জানান, সামরিক আইনের অবসান ঘটাতে পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এ আইন প্রত্যাহার করা হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















