সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

ইকোসিস্টেমকে রক্ষা করে প্রাকৃতিক সম্পদকে সুরক্ষার বার্তা দিলেন পরিবেশ সচিব

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেছেন, আমরা ইকোসিস্টেমকে রক্ষা করে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদকে সুরক্ষা করে আমাদের উন্নয়ন কাজকে পরিচালিত করবো।

বুধবার (১৪ মে) পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত Implementing Ecosystem-based Management in Ecologically Critical Areas in Bangladesh Inception Workshop (বুধবার ১৪ মে) পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন,আমাদের একটি জনবহুল দেশ। এই ছোট ভূখণ্ডে ১৭ কোটির উপরে মানুষের বসবাস। কাজেই আমাদের বনভূমি ও জলাভূমির উপরেও প্রচন্ড চাপ। মানুষের জীবিকা অর্থনীতি কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য প্রতিনিয়ত বনভূমি হারাচ্ছি। বনভূমি যে সংরক্ষণ সেগুলো বাধাগ্রস্থ হচ্ছে, দখল হয়ে যাচ্ছে, গাছ কাটা হচ্ছে। বসবাসের জন্য, শিল্পকারখানার জন্য বিভিন্ন ধরণের কাজের জন্য আমাদের বনভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে আমাদের যে জলাশয় আছে সেগুলো ভরাট হচ্ছে , দখল হচ্ছে, বিভিন্ন রকমের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে পানি দূষিত হয়ে যাচ্ছে। কলকারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল ছড়িয়ে পড়ছে পানিতে।

ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, ইকোসিস্টেমের একটি জায়গায় যখন আঘাত আসে, তখন খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে ক্ষতিটা আমাদের মানবজাতির কাছে চলে আসে। এখন আমরা দেখতে পাই আমাদের মাছের মধ্যে, আমাদের জলজ প্রাণীর মধ্যে বিভিন্ন ধরণের রোগ এবং হারিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় আমাদের মায়াবী নামক এই পৃথিবী এই গ্রহটি আছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও পরিবেশ দূষণের যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি, সেটি আমরা এই কাজের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীর জন্য কাজ করার নজির সৃষ্টি করবো।

 

কর্মশালায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ও হালদা নদী গবেষক ড. মোঃ মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, তামাকের বিষে দূষিত হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী। হালদাকে বাঁচাতে হলে তামাক চাষ বন্ধ করতে হবে।

রাবার ড্যাম হালদা নদীর জন্য কান্সার উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাবার ড্যাম হালদা নদীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিরকর একটি প্রজেক্ট। হালদা নদী রক্ষার স্বার্থে এই রাবার ড্যাম রিমুভ করতে হবে।

 

মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে যদি হালদা নদীকে দূষণমুক্ত করতে পারি, আমরা যেমন লন্ডনের টেমস নদীর উদাহরণ দেই, আমরা বাংলাদেশের হালদা নদীর উদাহরণ দিতে পারবো।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি। তিনি বলেন, “আমরা এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়, আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে এই স্থানের উপর জীবিকার জন্য নির্ভরশীল ব্যক্তিরা প্রকল্পের হস্তক্ষেপের দ্বারা প্রভাবিত না হন”। প্রকল্পের মূল উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে একটি আর্থিকভাবে টেকসই, বাস্তুতন্ত্র-ভিত্তিক সহ-ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার নকশা এবং বাস্তবায়ন, কার্যকর দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নদীর পানির মান পর্যবেক্ষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের জন্য বিকল্প জীবিকা এবং সম্পদ ব্যবহারকারী, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় অংশীদারদের সক্ষমতা বৃদ্ধি। তিনি আরও বলেন, শুধু এসিতে বসে প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কথা বললেই হবে না, আমাদেরকে সকল শ্রেণীর মানুষদেরকে নিয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য কাজ করতে হবে।

এই পাইলট প্রকল্পগুলি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলি সারা দেশের অন্যান্য ইসিএগুলিতে প্রতিলিপি তৈরির নির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল এবং কর্ম পরিকল্পনা (এনবিএসএপি) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য কাঠামোকে সমর্থন করে। এর ফলে ১১,০০০ হেক্টরেরও বেশি জলাভূমি উপকৃত হবে এবং হালদা নদী এবং মরজাত বাওড়ের আশেপাশের সম্প্রদায়গুলিকে সরাসরি সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মশালায় বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত পরিবেশগত সংখ্যা পণ্য এলাকা মারজাত বাওর ও চট্টগ্রাম বিভাগের বৈচিত্র্যায় ঐতিহ্যবাহী হালদা নদীকে সুরক্ষার লক্ষ্যের একটি বাস্তু তন্ত্র ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোড়া ও বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ বক্তারা।

উদ্বোধনী কর্মশালায় ১০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী একত্রিত হয়েছিল, যার মধ্যে MoEFCC, DoE, UNDP, কারিগরি সংস্থা, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং উন্নয়ন অংশীদারদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

 

আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

ইকোসিস্টেমকে রক্ষা করে প্রাকৃতিক সম্পদকে সুরক্ষার বার্তা দিলেন পরিবেশ সচিব

আপডেট সময় ০৭:৪৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেছেন, আমরা ইকোসিস্টেমকে রক্ষা করে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদকে সুরক্ষা করে আমাদের উন্নয়ন কাজকে পরিচালিত করবো।

বুধবার (১৪ মে) পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত Implementing Ecosystem-based Management in Ecologically Critical Areas in Bangladesh Inception Workshop (বুধবার ১৪ মে) পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন,আমাদের একটি জনবহুল দেশ। এই ছোট ভূখণ্ডে ১৭ কোটির উপরে মানুষের বসবাস। কাজেই আমাদের বনভূমি ও জলাভূমির উপরেও প্রচন্ড চাপ। মানুষের জীবিকা অর্থনীতি কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য প্রতিনিয়ত বনভূমি হারাচ্ছি। বনভূমি যে সংরক্ষণ সেগুলো বাধাগ্রস্থ হচ্ছে, দখল হয়ে যাচ্ছে, গাছ কাটা হচ্ছে। বসবাসের জন্য, শিল্পকারখানার জন্য বিভিন্ন ধরণের কাজের জন্য আমাদের বনভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে আমাদের যে জলাশয় আছে সেগুলো ভরাট হচ্ছে , দখল হচ্ছে, বিভিন্ন রকমের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে পানি দূষিত হয়ে যাচ্ছে। কলকারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল ছড়িয়ে পড়ছে পানিতে।

ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, ইকোসিস্টেমের একটি জায়গায় যখন আঘাত আসে, তখন খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে ক্ষতিটা আমাদের মানবজাতির কাছে চলে আসে। এখন আমরা দেখতে পাই আমাদের মাছের মধ্যে, আমাদের জলজ প্রাণীর মধ্যে বিভিন্ন ধরণের রোগ এবং হারিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় আমাদের মায়াবী নামক এই পৃথিবী এই গ্রহটি আছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও পরিবেশ দূষণের যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি, সেটি আমরা এই কাজের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীর জন্য কাজ করার নজির সৃষ্টি করবো।

 

কর্মশালায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ও হালদা নদী গবেষক ড. মোঃ মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, তামাকের বিষে দূষিত হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী। হালদাকে বাঁচাতে হলে তামাক চাষ বন্ধ করতে হবে।

রাবার ড্যাম হালদা নদীর জন্য কান্সার উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাবার ড্যাম হালদা নদীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিরকর একটি প্রজেক্ট। হালদা নদী রক্ষার স্বার্থে এই রাবার ড্যাম রিমুভ করতে হবে।

 

মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে যদি হালদা নদীকে দূষণমুক্ত করতে পারি, আমরা যেমন লন্ডনের টেমস নদীর উদাহরণ দেই, আমরা বাংলাদেশের হালদা নদীর উদাহরণ দিতে পারবো।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি। তিনি বলেন, “আমরা এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়, আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে এই স্থানের উপর জীবিকার জন্য নির্ভরশীল ব্যক্তিরা প্রকল্পের হস্তক্ষেপের দ্বারা প্রভাবিত না হন”। প্রকল্পের মূল উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে একটি আর্থিকভাবে টেকসই, বাস্তুতন্ত্র-ভিত্তিক সহ-ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার নকশা এবং বাস্তবায়ন, কার্যকর দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নদীর পানির মান পর্যবেক্ষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের জন্য বিকল্প জীবিকা এবং সম্পদ ব্যবহারকারী, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় অংশীদারদের সক্ষমতা বৃদ্ধি। তিনি আরও বলেন, শুধু এসিতে বসে প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কথা বললেই হবে না, আমাদেরকে সকল শ্রেণীর মানুষদেরকে নিয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য কাজ করতে হবে।

এই পাইলট প্রকল্পগুলি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলি সারা দেশের অন্যান্য ইসিএগুলিতে প্রতিলিপি তৈরির নির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল এবং কর্ম পরিকল্পনা (এনবিএসএপি) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য কাঠামোকে সমর্থন করে। এর ফলে ১১,০০০ হেক্টরেরও বেশি জলাভূমি উপকৃত হবে এবং হালদা নদী এবং মরজাত বাওড়ের আশেপাশের সম্প্রদায়গুলিকে সরাসরি সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মশালায় বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত পরিবেশগত সংখ্যা পণ্য এলাকা মারজাত বাওর ও চট্টগ্রাম বিভাগের বৈচিত্র্যায় ঐতিহ্যবাহী হালদা নদীকে সুরক্ষার লক্ষ্যের একটি বাস্তু তন্ত্র ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোড়া ও বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ বক্তারা।

উদ্বোধনী কর্মশালায় ১০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী একত্রিত হয়েছিল, যার মধ্যে MoEFCC, DoE, UNDP, কারিগরি সংস্থা, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং উন্নয়ন অংশীদারদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।