অর্গানিক বা জৈব খাবার সাধারণ খাবারের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। তবে গবেষণার ফলাফল থেকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়। সহজ কথায় বলতে গেলে, অর্গানিক খাবার সাধারণ খাবারের চেয়ে বিশাল ব্যবধানে বেশি পুষ্টিকর—এমন প্রমাণ এখনো মেলেনি। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি অবশ্যই এগিয়ে থাকে।
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অর্গানিক ফলমূল ও সবজিতে সাধারণ খাবারের তুলনায় ২০% থেকে ৭০% বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। যেহেতু অর্গানিক গাছে কোনো রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না, তাই গাছ নিজেকে রক্ষা করার জন্য নিজস্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা (অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট) বেশি তৈরি করে।
ভিটামিন সি, আয়রন এবং জিঙ্কের মতো উপাদানের ক্ষেত্রে অর্গানিক খাবার কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে। তবে এই পার্থক্য এতই সামান্য যে, তা আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর খুব বড় প্রভাব ফেলে না। অর্গানিক উপায়ে লালন-পালন করা গরু বা খাসির মাংস এবং দুধে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রায় ৫০% বেশি থাকে। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
অর্গানিক খাবারের মূল গুণটি পুষ্টির চেয়ে বেশি এর নিরাপদ। অর্গানিক খাবারে ক্ষতিকারক রাসায়নিক কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থাকে না বললেই চলে। অর্গানিক মাংসে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে। এতে নাইট্রেটের পরিমাণ প্রায় ৩০% কম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ বা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
আপনার কি অর্গানিক খাবারই কেনা উচিত?
এটি মূলত আপনার বাজেট এবং পছন্দের ওপর নির্ভর করে। আপনি যদি সরাসরি পুষ্টির কথা ভাবেন, তবে অর্গানিক বা সাধারণ খাবারের চেয়ে ‘তাজা’ (Fresh) খাবার খাওয়া বেশি জরুরি। অনেক সময় অনেক দূর থেকে আসা অর্গানিক খাবারের চেয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সাধারণ তাজা সবজি বেশি পুষ্টিকর হতে পারে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষক ও পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, অর্গানিক খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে আমাদের ধারণায় কিছুটা ভুল রয়েছে। চলুন, জেনে নিই।
পুষ্টিগুণে বড় কোনো পার্থক্য নেই। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ড. ত্রিশা পাশরিচা সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, অরগানিক এবং সাধারণ পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাবারের পুষ্টিগুণে (ভিটামিন বা মিনারেল) তেমন বড় কোনো তফাৎ নেই। তাই শুধু বাড়তি পুষ্টির আশায় অরগানিক বেছে নেওয়া খুব একটা লাভজনক নয়। আসল পার্থক্য যেখানে অর্গানিক এবং সাধারণ খাবারের মূল পার্থক্য পুষ্টিতে নয়, বরং কীটনাশকের ব্যবহারে।
গবেষণায় দেখা গেছে:
১। অর্গানিক চাষাবাদে রাসায়নিক কীটনাশক অনেক কম ব্যবহার করা হয়।
২। সাধারণ খাবারের তুলনায় অর্গানিক খাবারে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ প্রায় ৩০ শতাংশ কম থাকে।
তবে ড. পাশরিচা আশ্বস্ত করে বলেন, বাজারে প্রচলিত সাধারণ সবজিতে কীটনাশকের যে সামান্য অংশ থাকে, তা একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় বলে প্রমাণিত। কাদের জন্য অর্গানিক বেশি জরুরি? বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সবার জন্য না হলেও নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য অর্গানিক খাবার বেছে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে: ১. গর্ভবতী নারী এবং ২. ছোট শিশু। তাদের শরীর অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় রাসায়নিক কীটনাশকের সামান্য প্রভাবও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে। গবেষকদের মতে, যারা নিয়মিত অর্গানিক খাবার খান, তারা সাধারণত স্বাস্থ্য সচেতন হন এবং একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করেন। অর্গানিক খাবার পুষ্টির দিক থেকে সামান্য এগিয়ে থাকলেও, এর প্রধান সুবিধা হলো এতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক বা কীটনাশক থাকে না।
ডেস্ক রিপোর্ট 

























