কিরিলভ হত্যায় ফুঁসছে রাশিয়া, রুশ গোয়েন্দাদের হাতে সন্দেহভাজন আটক

কিরিলভ হত্যায় ফুঁসছে রাশিয়া, রুশ গোয়েন্দাদের হাতে সন্দেহভাজন আটক

রাশিয়ার মাটিতে তাও আবার মস্কোয় শীর্ষ জেনারেলকে হত্যায় ফুঁসছে রুশরা। জেনারেল ইগর কিরিলভ হত্যার ঘটনায় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অনুষ্ঠিত এক টকশোর উপস্থাপক বলেছেন, এই হামলার মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজের মৃত্যুদণ্ডে সই করেছেন।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) মস্কোয় রাশিয়ার পারমাণবিক সুরক্ষা ফোর্সের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইগর কিরিলভ নিহত হন। এই গুপ্তহত্যার দায় স্বীকার করেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ-এর একটি বিশেষ অভিযানে তাকে হত্যা করা হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত কিরিলভই সবচেয়ে শীর্ষ রুশ সামরিক কর্তা যিনি রাশিয়ার মাটিতেই নিহত হয়েছেন। আর এতে অবশ্যই নাড়া লেগেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়। নড়েচড়ে বসেছে রুশ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ)। ইতোমধ্যে তারা উজবেকিস্তানের ২৯ বছর বয়সী এক নাগরিককে আটক করেছে।

রুশ গোয়েন্দাদের হাতে আটক সন্দেহভাজন

এফএসবি জানিয়েছে, অজ্ঞাতনামা এই সন্দেহভাজন নাগরিককে নিয়োগ করেছিল ইউক্রেনের গোয়েন্দারা। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানায় বিবিসি।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা তাকে নিয়োগ দিয়েছে।

এফএসবি’র প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে হাতকড়া পরা সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে ক্যামেরার সামনে সরাসরি কথা বলতে দেখা গেছে।

তিনি বলছিলেন, কিরিলভকে হত্যার বিনিময়ে তাকে এক লাখ ডলার পুরস্কারসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নে যাওয়ার ‘নিশ্চয়তা’ দেওয়া হয়েছিল। এফএসবি বলছে, ইউক্রেইনের নির্দেশেই এই ব্যক্তি মস্কোয় পৌঁছান এবং হাতে তৈরি একটি বিস্ফোরক ডিভাইস পান।

এই বিস্ফোরকটি তিনি একটি বৈদ্যুতিক স্কুটারে পেতে রেখেছিলেন এবং স্কুটারটি কিরিলভের বাসভবনের প্রবেশপথে দাঁড় করিয়ে রাখেন। বাসভবনটি নজরে রাখতে একটি গাড়ি ভাড়া করেন এবং ক্যামেরাও লাগান তিনি।

ইগর কিরিলভ ও তার সহকারী মস্কোর রিয়াজানস্কি প্রসপেক্ট এর বাড়ির প্রবেশপথে ঢুকতেই বিস্ফোরক পেতে রাখা স্কুটার বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হন।

এফএসবি জানায়, কিরিলভকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যাওয়ার সময়ই ওই উজবেক যুবককে বোমার সুইচ টিপে বিস্ফোরণ ঘটাতে বলা হয়েছিল।

এদিকে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ইগর কিরিলভকে হত্যার মাধ্যমে আসলে ইউক্রেন নিজের যন্ত্রণাই ডেকে আনলো।

কিরিলভ হত্যার বিষয়ে এখনো মুখ খোলেননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে রুশ রাষ্ট্রপ্রধান আগে বহুবার বলেছেন, নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হলে রাশিয়া সব সময় জবাব দেবে। তাই রাশিয়া কিরিলভ হত্যার প্রতিশোধ নিতে পারে এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান পরিবেশ অধিদপ্তরের

কিরিলভ হত্যায় ফুঁসছে রাশিয়া, রুশ গোয়েন্দাদের হাতে সন্দেহভাজন আটক

আপডেট সময় ০৬:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪

রাশিয়ার মাটিতে তাও আবার মস্কোয় শীর্ষ জেনারেলকে হত্যায় ফুঁসছে রুশরা। জেনারেল ইগর কিরিলভ হত্যার ঘটনায় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অনুষ্ঠিত এক টকশোর উপস্থাপক বলেছেন, এই হামলার মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজের মৃত্যুদণ্ডে সই করেছেন।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) মস্কোয় রাশিয়ার পারমাণবিক সুরক্ষা ফোর্সের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইগর কিরিলভ নিহত হন। এই গুপ্তহত্যার দায় স্বীকার করেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ-এর একটি বিশেষ অভিযানে তাকে হত্যা করা হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত কিরিলভই সবচেয়ে শীর্ষ রুশ সামরিক কর্তা যিনি রাশিয়ার মাটিতেই নিহত হয়েছেন। আর এতে অবশ্যই নাড়া লেগেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়। নড়েচড়ে বসেছে রুশ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ)। ইতোমধ্যে তারা উজবেকিস্তানের ২৯ বছর বয়সী এক নাগরিককে আটক করেছে।

রুশ গোয়েন্দাদের হাতে আটক সন্দেহভাজন

এফএসবি জানিয়েছে, অজ্ঞাতনামা এই সন্দেহভাজন নাগরিককে নিয়োগ করেছিল ইউক্রেনের গোয়েন্দারা। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানায় বিবিসি।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা তাকে নিয়োগ দিয়েছে।

এফএসবি’র প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে হাতকড়া পরা সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে ক্যামেরার সামনে সরাসরি কথা বলতে দেখা গেছে।

তিনি বলছিলেন, কিরিলভকে হত্যার বিনিময়ে তাকে এক লাখ ডলার পুরস্কারসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নে যাওয়ার ‘নিশ্চয়তা’ দেওয়া হয়েছিল। এফএসবি বলছে, ইউক্রেইনের নির্দেশেই এই ব্যক্তি মস্কোয় পৌঁছান এবং হাতে তৈরি একটি বিস্ফোরক ডিভাইস পান।

এই বিস্ফোরকটি তিনি একটি বৈদ্যুতিক স্কুটারে পেতে রেখেছিলেন এবং স্কুটারটি কিরিলভের বাসভবনের প্রবেশপথে দাঁড় করিয়ে রাখেন। বাসভবনটি নজরে রাখতে একটি গাড়ি ভাড়া করেন এবং ক্যামেরাও লাগান তিনি।

ইগর কিরিলভ ও তার সহকারী মস্কোর রিয়াজানস্কি প্রসপেক্ট এর বাড়ির প্রবেশপথে ঢুকতেই বিস্ফোরক পেতে রাখা স্কুটার বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হন।

এফএসবি জানায়, কিরিলভকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যাওয়ার সময়ই ওই উজবেক যুবককে বোমার সুইচ টিপে বিস্ফোরণ ঘটাতে বলা হয়েছিল।

এদিকে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ইগর কিরিলভকে হত্যার মাধ্যমে আসলে ইউক্রেন নিজের যন্ত্রণাই ডেকে আনলো।

কিরিলভ হত্যার বিষয়ে এখনো মুখ খোলেননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে রুশ রাষ্ট্রপ্রধান আগে বহুবার বলেছেন, নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হলে রাশিয়া সব সময় জবাব দেবে। তাই রাশিয়া কিরিলভ হত্যার প্রতিশোধ নিতে পারে এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।