ঘরের গাছের যত্নে এই ভুলগুলো করবেন না

ঘরের গাছের যত্নে এই ভুলগুলো করবেন না

অনেকেই বাগান করতে ভালোবাসেন। গাছের প্রতি ভালোবাসা আছে অনেকেরই, এ কারণে ফ্ল্যাটের কোণা, বারান্দা বা জানালার তাকে গাছ রাখেন। কেউ আবার ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রঙিন এবং বাহারি গাছ দিয়ে সাজান। তবে শৌখিন গাছের যত্নেও বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি। একেকটি গাছের জন্য একেক রকম পরিবেশ দরকার। ঘরের ভিতরে যে গাছগুলি রাখা হয় অর্থাৎ ‘ইনডোর প্ল্যান্ট’ সেগুলি কম আলোতেও বাঁচে। বাগানে বেড়ে ওঠা গাছ আর ঘরের ভিতরের গাছের যত্নের ক্ষেত্র সম্পূর্ণ আলাদা। এদের পরিচর্যা, বাঁচিয়ে রাখার নিয়ম সব কিছুতেই যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। যত্ন নিয়েও ঘরের গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখতে পারছেন না, তার কারণ গুলো জেনে নিন-

ভুল জায়গা নির্বাচন: ইনডোর প্ল্যান্টের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব গাছেরই একই পরিমাণ রোদ বা ছায়া লাগে না। কিছু গাছের জন্য ছায়া, আবার কিছু গাছের জন্য শুধু রোদ, আর কিছু গাছের জন্য রোদ ছায়া দুটোই প্রয়োজন হয়। তাই গাছের প্রকৃতি অনুযায়ী উপযুক্ত জায়গায় রাখা জরুরি।

সঠিক টব নির্বাচন না করা : বাহারি টব কিনে গাছ লাগালেই হবে না, সে টব গাছের জন্য আদর্শ কি না, সেটা দেখতে হবে। টবের নিচে ছিদ্র থাকা জরুরি। ছিদ্রহীন টবে পানি জমে গাছের শিকড় পচে যায়। গাছে নিয়ম করে পানি দেওয়া ছাড়াও, সেই পানি জমে থাকছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। পানি জমতে দেওয়া যাবে না কোনোভাবেই।

বেশি পানি দেওয়া : গাছ ভালো রাখতে হলে পরিমাণ মতো পানি দেওয়া প্রয়োজন। বেশি পানি দিলে গাছের পাতা পচে যেতে পারে। গাছের জন্য কতটা পানি প্রয়োজন, তা মাটি স্পর্শ করলেই বোঝা যায়। যদি দেখেন, মাটি আঙুলে লেগে যাচ্ছে, তা হলে আর পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি দেখেন, মাটি শুকনো খটখটে হয়ে গেছে, তা হলে পানি দেওয়ার প্রয়োজন আছে।

রোদ না দেওয়া: ‘ইনডোর প্ল্যান্ট’ মূলত যছায়াবান্ধব হয়। সেগুলি বেশি রোদে রাখলে পাতা শুকিয়ে যাবে। তাই ঘরের কোনদিকে বেশি রোদ আসছে, তা বুঝে নিয়ে গাছ রাখুন। তবে যে সব গাছ রোদ ছাড়া বাঁচে না, সেগুলিকে ঘরের জানলায় বা বারান্দায় রাখলেও, সপ্তাহে একদিন কিংবা কমপক্ষে প্রতি ১০ দিনে একবার ছাদে নিয়ে গিয়ে রোদে রাখতে হবে। চারা গাছ হলে কিন্তু দুপুরের চড়া রোদে বাইরে রাখবেন না, তা হলে গাছ মরে যাবে।

গাছের পাতা না ছাঁটা: অনেক সময় গাছের পাতায় পোকা লাগলে গাছের বৃদ্ধি বাধা পায়। তাই মাঝেমাঝে গাছের পাতা ছাঁটতে পারলে ভালো। তাতে গাছ বেড়ে উঠবে সহজে।

গাছের পুষ্টি: ইনডোর প্ল্যান্টেরও পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। তিন থেকে চার মাস অন্তর গোবর সার দিতে হবে। মাটিতে সরাসরি রাসায়নিক সার দেবেন না। বরং বাড়িতেই জৈব সার বানিয়ে নিতে পারেন। সবজির খোসা আর চায়ের ভেজা পাতা শুকিয়ে নিলে উত্তম সার হতে পারে। ডিমের খোসা গুঁড়ো করে সাত থেকে দশ দিন মুখবন্ধ পাত্রে রেখে ভেজান। তার পর ছেঁকে নিয়ে সমপরিমান পরিষ্কার পানি দিয়ে গাছের গোড়ায় দিতে পারেন। পেঁয়াজের খোসার ক্ষেত্রেও তাই।

গাছ পরিষ্কার না করা: গাছের গায়ে ধুলো জমলে পাতা শ্বাস নিতে পারে না। গাছের গায়ে ঝুল জমলে পাতলা সুতির কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। খুব ছোট আকারের পাতা হলে কীটনাশক স্প্রে দিয়ে পরিষ্কার রাখুন গাছ। তবে ঝুলঝা়ড়া বা অন্য কিছু গাছের পরিষ্কারের জন্য ব্যবহার করবেন না।

ঘরের গাছের যত্নে এই ভুলগুলো করবেন না prokritibarta

ঘরের গাছ বাঁচানোর উপায়:

  • সঠিক জায়গায় রাখুন: গাছের প্রকৃতি অনুযায়ী ঘরের উপযুক্ত জায়গায় রাখুন।
  • সঠিক টব ব্যবহার করুন: টবের নিচে ছিদ্র থাকা জরুরি।
  • নিকাশির ব্যবস্থা করুন: টবের ছিদ্র দিয়ে বাড়তি পানি বেরোচ্ছে কি না, সেটা দেখে নিন।
  • পানি নিয়মিত দিন: মাটি শুকনো হলেই পানি দিন।
  • রোদ দিন: গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী রোদ দিন।
  • পাতা ছাঁটুন: নিয়মিত পাতা ছাঁটুন।
  • জৈব সার দিন: গাছের গোড়ায় নিয়মিত জৈব সার দিন।

ঘরের গাছ বাঁচানো খুব একটা কঠিন কাজ না। গাছ বুঝে সঠিক যত্ন নিলে ঘরে সবুজের ছোঁয়া রাখা সম্ভব।

গবেষণা: বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কৃষক-জেলেরা

ঘরের গাছের যত্নে এই ভুলগুলো করবেন না

আপডেট সময় ০৫:১৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০২৪

অনেকেই বাগান করতে ভালোবাসেন। গাছের প্রতি ভালোবাসা আছে অনেকেরই, এ কারণে ফ্ল্যাটের কোণা, বারান্দা বা জানালার তাকে গাছ রাখেন। কেউ আবার ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রঙিন এবং বাহারি গাছ দিয়ে সাজান। তবে শৌখিন গাছের যত্নেও বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি। একেকটি গাছের জন্য একেক রকম পরিবেশ দরকার। ঘরের ভিতরে যে গাছগুলি রাখা হয় অর্থাৎ ‘ইনডোর প্ল্যান্ট’ সেগুলি কম আলোতেও বাঁচে। বাগানে বেড়ে ওঠা গাছ আর ঘরের ভিতরের গাছের যত্নের ক্ষেত্র সম্পূর্ণ আলাদা। এদের পরিচর্যা, বাঁচিয়ে রাখার নিয়ম সব কিছুতেই যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। যত্ন নিয়েও ঘরের গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখতে পারছেন না, তার কারণ গুলো জেনে নিন-

ভুল জায়গা নির্বাচন: ইনডোর প্ল্যান্টের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব গাছেরই একই পরিমাণ রোদ বা ছায়া লাগে না। কিছু গাছের জন্য ছায়া, আবার কিছু গাছের জন্য শুধু রোদ, আর কিছু গাছের জন্য রোদ ছায়া দুটোই প্রয়োজন হয়। তাই গাছের প্রকৃতি অনুযায়ী উপযুক্ত জায়গায় রাখা জরুরি।

সঠিক টব নির্বাচন না করা : বাহারি টব কিনে গাছ লাগালেই হবে না, সে টব গাছের জন্য আদর্শ কি না, সেটা দেখতে হবে। টবের নিচে ছিদ্র থাকা জরুরি। ছিদ্রহীন টবে পানি জমে গাছের শিকড় পচে যায়। গাছে নিয়ম করে পানি দেওয়া ছাড়াও, সেই পানি জমে থাকছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। পানি জমতে দেওয়া যাবে না কোনোভাবেই।

বেশি পানি দেওয়া : গাছ ভালো রাখতে হলে পরিমাণ মতো পানি দেওয়া প্রয়োজন। বেশি পানি দিলে গাছের পাতা পচে যেতে পারে। গাছের জন্য কতটা পানি প্রয়োজন, তা মাটি স্পর্শ করলেই বোঝা যায়। যদি দেখেন, মাটি আঙুলে লেগে যাচ্ছে, তা হলে আর পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি দেখেন, মাটি শুকনো খটখটে হয়ে গেছে, তা হলে পানি দেওয়ার প্রয়োজন আছে।

রোদ না দেওয়া: ‘ইনডোর প্ল্যান্ট’ মূলত যছায়াবান্ধব হয়। সেগুলি বেশি রোদে রাখলে পাতা শুকিয়ে যাবে। তাই ঘরের কোনদিকে বেশি রোদ আসছে, তা বুঝে নিয়ে গাছ রাখুন। তবে যে সব গাছ রোদ ছাড়া বাঁচে না, সেগুলিকে ঘরের জানলায় বা বারান্দায় রাখলেও, সপ্তাহে একদিন কিংবা কমপক্ষে প্রতি ১০ দিনে একবার ছাদে নিয়ে গিয়ে রোদে রাখতে হবে। চারা গাছ হলে কিন্তু দুপুরের চড়া রোদে বাইরে রাখবেন না, তা হলে গাছ মরে যাবে।

গাছের পাতা না ছাঁটা: অনেক সময় গাছের পাতায় পোকা লাগলে গাছের বৃদ্ধি বাধা পায়। তাই মাঝেমাঝে গাছের পাতা ছাঁটতে পারলে ভালো। তাতে গাছ বেড়ে উঠবে সহজে।

গাছের পুষ্টি: ইনডোর প্ল্যান্টেরও পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। তিন থেকে চার মাস অন্তর গোবর সার দিতে হবে। মাটিতে সরাসরি রাসায়নিক সার দেবেন না। বরং বাড়িতেই জৈব সার বানিয়ে নিতে পারেন। সবজির খোসা আর চায়ের ভেজা পাতা শুকিয়ে নিলে উত্তম সার হতে পারে। ডিমের খোসা গুঁড়ো করে সাত থেকে দশ দিন মুখবন্ধ পাত্রে রেখে ভেজান। তার পর ছেঁকে নিয়ে সমপরিমান পরিষ্কার পানি দিয়ে গাছের গোড়ায় দিতে পারেন। পেঁয়াজের খোসার ক্ষেত্রেও তাই।

গাছ পরিষ্কার না করা: গাছের গায়ে ধুলো জমলে পাতা শ্বাস নিতে পারে না। গাছের গায়ে ঝুল জমলে পাতলা সুতির কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। খুব ছোট আকারের পাতা হলে কীটনাশক স্প্রে দিয়ে পরিষ্কার রাখুন গাছ। তবে ঝুলঝা়ড়া বা অন্য কিছু গাছের পরিষ্কারের জন্য ব্যবহার করবেন না।

ঘরের গাছের যত্নে এই ভুলগুলো করবেন না prokritibarta

ঘরের গাছ বাঁচানোর উপায়:

  • সঠিক জায়গায় রাখুন: গাছের প্রকৃতি অনুযায়ী ঘরের উপযুক্ত জায়গায় রাখুন।
  • সঠিক টব ব্যবহার করুন: টবের নিচে ছিদ্র থাকা জরুরি।
  • নিকাশির ব্যবস্থা করুন: টবের ছিদ্র দিয়ে বাড়তি পানি বেরোচ্ছে কি না, সেটা দেখে নিন।
  • পানি নিয়মিত দিন: মাটি শুকনো হলেই পানি দিন।
  • রোদ দিন: গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী রোদ দিন।
  • পাতা ছাঁটুন: নিয়মিত পাতা ছাঁটুন।
  • জৈব সার দিন: গাছের গোড়ায় নিয়মিত জৈব সার দিন।

ঘরের গাছ বাঁচানো খুব একটা কঠিন কাজ না। গাছ বুঝে সঠিক যত্ন নিলে ঘরে সবুজের ছোঁয়া রাখা সম্ভব।